চাকমাঘাটে ১৪ দিনব্যাপী হ্যান্ডলুম এক্সপোর উদ্বোধন, বর্তমান সরকার জনজাতিদের আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: : হস্ততাঁত, হস্তকারু ও রেশম শিল্প দপ্তর ও খোয়াই জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এবং ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় আজ সন্ধ্যায় তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত চাকমাঘাট ব্যারেজ সংলগ্ন স্থানে ১৪ দিনব্যাপী হাতকরঘা মেলা ও রাজ্যভিত্তিক হ্যান্ডলুম এক্সপোর উদ্বোধন করেন জনজাতি কল্যাণ, হস্ততাঁত, হস্তকারু ও রেশম শিল্প দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায় এবং সহ-সভাধিপতি সত্যেন্দ্র চন্দ্র দাস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অভিজিৎ চক্রবর্তী, তেলিয়ামুড়া মহকুমার মহকুমা শাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তী, তাঁতশিল্প পরিষেবা কেন্দ্রের উপ-অধিকর্তা অর্ণব চৌধুরী, বিশিষ্ট সমাজসেবী ধনঞ্জয় দাস ও ওয়াথারাই মলসম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খোয়াই জিলা পরিষদের সদস্য রণজিৎ সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হস্ততাঁত, হস্তকারু ও রেশম শিল্প দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ও অধিকর্তা অজিত শুক্লদাস।

তিনি জানান, এবারের মেলায় মোট ৬০টি স্টল খোলা হয়েছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার জনজাতিদের আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। তিনি খোয়াই জেলাকে রাজ্যের অন্যতম প্রগতিশীল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

তিনি এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গঠনে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। তিনি জানান, তেলিয়ামুড়া মহকুমায় শীঘ্রই হস্ততাঁত, হস্তকারু ও রেশম শিল্প দপ্তরের জেলা কার্যালয় চালু করা হবে। খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এই মেলার মাধ্যমে হস্ততাঁত ও হস্তকারু শিল্পীদের পণ্য বিক্রির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁদের আয় বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ বিভিন্ন রাজ্যের হস্ততাঁতে তৈরি বস্ত্র ও সামগ্রী ক্রয়ের সুযোগ পাবেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হস্ততাঁত ও হস্তকারু শিল্পের মাধ্যমে আয়ের নতুন দিশা উন্মোচন করেছে, যা পূর্বে এভাবে পরিলক্ষিত হয়নি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিগণও বক্তব্য রাখেন এবং মেলার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগরতলা থেকে আগত শিল্পীগণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।