ড. বি. আর. আম্বেদকর স্বর্ণপদক ও মেধা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক, ০৫ মার্চ, ২০২৬: তফসিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে ডঃ বি. আর. আম্বেদকর স্বর্ণপদক ও মেধা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আজ দুপুরে সুকান্ত একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। ত্রিপুরা মধ্য শিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত ২০২৫ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম থেকে দশম স্থানাধিকারী এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি ও মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তফসিলি জাতি কল্যাণ ও অন্যান্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস, বিধায়ক মিনারানী সরকার, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, টি এস সি সি এফ লিমিটেডের চেয়ারম্যান টুটন দাস, এসসি ওয়েলফেয়ার দপ্তরের সচিব দীপা ডি. নায়ার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার, এসসি ওয়েলফেয়ার দপ্তরের অধিকর্তা জয়ন্ত দে সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা।

এই অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মোট ১৮১৭ জন ছাত্রছাত্রীকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়। সারা রাজ্যে এ বছর প্রায় ৬০০৯ জন শিক্ষার্থী ডঃ বি. আর. আম্বেদকর মেরিট অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে স্বর্ণপদক, ২৫ হাজার টাকা অর্থমূল্যের চেক এবং সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের হাতেও সার্টিফিকেট এবং নির্ধারিত অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

তফসিলি জাতি কল্যাণ ও অন্যান্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করা এবং তাদের মধ্যে মেধা বিকাশে অনুপ্রেরণা যোগানো। এই কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৪০০ টাকা, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৭০০ টাকা এবং দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও গোল্ড মেডেলপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ২৫ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে তারা তাদের মেধা ও সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। তবে সাফল্যকে ধরে রাখতে হলে ভবিষ্যতেও নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৪৩টি স্পেশাল কোর্সের জন্য দপ্তর থেকে স্কলারশিপের ব্যবস্থা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এস.সি. ওয়েলফেয়ার দপ্তরের অধিকর্তা জয়ন্ত দে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন ভবিষ্যতেও তারা একইভাবে পড়াশোনায় আরও ভালো ফলাফল করবে। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল। এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল করতে অনুপ্রাণিত করবে এবং রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।