রাজ্যভিত্তিক বিকশিত ভারত যুব সংসদে কৃষিমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকার দেশ ও রাজ্যের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যুবাদের চিন্তা, ভাবনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে

অনলাইন ডেস্ক, ১৪ মার্চ, ২০২৬: যুবারা দেশের ভবিষ্যৎ। আমাদের দেশে প্রায় ৩৫ কোটি ৭ লক্ষ যুবক-যুবতী রয়েছে। তাদের চিন্তাধারা, বিবেক, বুদ্ধি জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আজকের যুবারাই আগামীদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে। এ লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৯ সাল থেকে সারা দেশে বিকশিত ভারত যুব সংসদ আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ তথা সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতনলাল নাথ আজ ত্রিপুরা বিধানসভায় রাজ্যভিত্তিক বিকশিত ভারত যুব সংসদ ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। ত্রিপুরা বিধানসভা এবং যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আজ এই অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় ছিল ‘কেন্দ্রীয় বাজেট-২০২৬-২৭’।

এতে রাজ্যের ৮টি জেলার বিভিন্ন মহাবিদ্যালয় থেকে মোট ৩৭ জন ছাত্রছাত্রী বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তারা বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় বক্তৃতা দেয়। আগে জেলাভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতনলাল নাথ অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও বিকশিত ভারত গড়ার প্রয়াস নিয়েছেন। যুব শক্তিকে এই ভিশনে আরও বেশি করে অংশগ্রহণের লক্ষ্যেই এই ধরণের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার দেশ ও রাজ্যের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যুবাদের চিন্তা, ভাবনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই বর্তমান প্রজন্ম রাজনীতিতে আসুক। তারা সমাজ সেবায় নিজেদের চিন্তা, চেতনা ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রকাশ করুক। এ লক্ষ্যেই আজ এই প্ল্যাটফর্মের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ দেশ মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, গৌতম বুদ্ধ প্রমুখের দেশ। তাঁদের চিন্তা, চেতনা ও আদর্শ বর্তমান প্রজন্মকে অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের ৩৫ কোটি ৭ লক্ষ যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন ভারত গড়ার প্রয়াস নিয়েছেন। ভারতবর্ষ আজ বিশ্ব নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে চলেছে। বিশেষ অতিথির ভাষণে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, আজকের যুবারা যদি ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পবিত্র বিধানসভা ও লোকসভায় আসে তাহলে দেশ আরও উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, দেশে ৬৫ শতাংশ যুব সম্প্রদায় রয়েছে। এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটেও যুবাদের জন্য কি পরিকল্পনা রয়েছে তা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, আজ আমাদের রাজ্যের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা, সংস্কৃতি ইত্যাদির মাধ্যমে রাজ্যের সুনাম অর্জন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন আজকের প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থানাধিকারি দিল্লির সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় যুব সংসদে অংশ নিয়ে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করবে। স্বাগত বক্তব্যে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব ড. প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, এটা যুবাদের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করার একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম। তিনি বলেন, এবারের কেন্দ্রীয় বাজেট শুধু একটি বাজেট নয়, এই বাজেট দেশের উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন এরূপ আলোচনাচক্র যুবক-যুবতীদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে।

বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ত্রিপুরা বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল। জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তপশিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস, সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, ত্রিপুরা বিধানসভার সরকারি মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায় ও বিধায়ক চিত্তরঞ্জন দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা, বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়, ত্রিপুরা বিধানসভার সচিব অমিয় কান্তি নাথ, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের অধিকর্তা এল ডার্লং, মাই ভারত-স্টেট ডিরেক্টর বি পি সাহ প্রমুখ। আজ এই প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করেছে যথাক্রমে পুষ্পিকা দাস, রাজষী পাল এবং প্রশান্ত দত্ত। এই তিনজন নতুন দিল্লির সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় যুব পার্লামেন্টে অংশ নেবে।

Recent Posts