অনলাইন ডেস্ক, ২৩ মার্চ, ২০২৬: রাজ্যের প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর এলাকাকে ধাপে ধাপে জৈব এবং প্রাকৃতিক কৃষির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। বর্তমানে রাজ্যে জৈব পদ্ধতিতে সুগন্ধী ধান, আনারস, ব্ল্যাক রাইস, বার্ড আই চিলি, গন্ধরাজ লেবু, তিল, কাঁঠাল, কমলা, কাউন, আদা, হলুদ ইত্যাদি ফসল চাষ হচ্ছে। আজ বিধানসভা অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে বিধায়ক প্রমোদ রিয়াংয়ের আনা একটি বেসরকারি প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ একথা বলেন। বিধায়ক প্রমোদ রিয়াংয়ের আনা বেসরকারি প্রস্তাবটি ছিল ‘ত্রিপুরায় সমন্বিত জৈব কৃষি মিশন বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করুক’।
তিনি প্রস্তাবটি উত্থাপন করে আলোচনা করেন। এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জৈব কৃষি ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। জৈব চাষ হল কৃষি উৎপাদনের এমন একটি ব্যবস্থাপনা যা পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে কীটনাশক এবং রাসায়নিক ব্যবহারের ছাড়া ফসল উৎপাদন করা হয়। জৈবভাবে উৎপাদিত খাবারে সাধারণত উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট থাকে যা আমাদের শরীরে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
কৃষিমন্ত্রী জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তায় রাজ্যে জৈবচাষের কাজ শুরু হয়েছিল মাত্র ২ হাজার হেক্টর এলাকায়। বর্তমানে জৈবচাষের এলাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬,৫০০ হেক্টরে। বর্তমানে জৈবচাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ২৬,৮৮৪ জন কৃষক। অর্গানিক ক্লাস্টার রয়েছে ১,৪০৮টি। এফপিসি রয়েছে ৫৩টি। গত ৩ বছরে রাজ্য থেকে ২৯.৫৮ মেট্রিকটন সুগন্ধী চাল, ৫০১ মেট্রিকটন আদা, ৫২.৫ মেট্রিকটন হলুদ, ১৭.১০ মেট্রিকটন বার্ড আই চিলি, ৩২.৫৬ মেট্রিকটন লেবু এবং ৫৫৪ মেট্রিকটন আনারস রাজ্য ও বহিরাজ্যে বাজারজাত করা সম্ভব হয়েছে।
গত ৩ বছরে ত্রিপুরা থেকে ৮ কোটি ৭৯ লক্ষ ৫ হাজার টাকার জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেও রাজ্য থেকে ৩ মেট্রিকটন কালি খাঁসা ও হরিনারায়ণ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসেও ১৫ হাজার সুগন্ধী লেবু তেলিয়ামুড়া থেকে কলকাতায় পাঠানো হয়েছিল। । কৃষিমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে উৎপাদিত জৈব ফসল সার্টিফিকেশনের সুবিধা দিতে ত্রিপুরা স্টেট অর্গানিক প্রোডাক্ট সার্টিফিকেশন এজেন্সি নামে একটি জৈব শংসাপত্র সংস্থা ২০২৩ সালে গঠিত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ১০টি অর্গানিক আউটলেট বা বিপনণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখান থেকে রাজ্যবাসী জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসল কিনতে পারছেন।
সম্প্রতি জার্মানির ন্যুরেমবার্গ শহরে বায়োফেচ ২০২৬ মেলায় ত্রিপুরাও অংশ নিয়েছিল। এই মেলায় ত্রিপুরার জৈব কৃষি পণ্যগুলি প্রদর্শন করা হয়েছিল। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত আঁদা এবং বার্ড আই চিলি বা ধানি লঙ্কা জার্মানিতে সমাদৃত হয়েছে। জার্মানির কৃষি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ৫০০ মেট্রিকটন আদা এবং ২০ মেট্রিকটন ধানি লঙ্কা সরবরাহের বরাত পাওয়া গেছে। রাজ্য সরকারের কৃষক দরদী উদ্যোগের ফলে রাজ্যে জৈব চাষের শুধু এলাকা বৃদ্ধিই নয়, এই চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের আর্থ সামাজিক অবস্থারও উন্নতি হবে বলে কৃষিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। বেসরকারি প্রস্তাবটির উপর আলোচনায় অংশ নেন বিধায়ক সুদীপ সরকার এবং নয়ন সরকার।









