মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুর ৬৫তম পর্ব, রাজ্যের বাইরের বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার প্রবণতা আরও কমাতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ৬ মে, ২০২৬: রাজ্য সরকারের লক্ষ্য রাজ্যবাসীকে সুস্থ রাখা এবং চিকিৎসার জন্য যেন ব্যক্তিগতভাবে বেশি টাকা ব্যয় করতে না হয় তার ব্যবস্থা করা। সেইজন্য বর্তমানে রাজ্যের রেফারেল হাসপাতালগুলিতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করে রাজ্যেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে রাজ্যেই কিডনি প্রতিস্থাপন সহ নানা জটিল অপারেশন সাফল্যের সাথে করা সম্ভব হচ্ছে।

রেফারেল হাসপাতালগুলিতে জটিল চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে রাজ্যের মানুষের আরও বেশি করে আস্থা বজায় রাখতে হবে। অযথা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে রাজ্যের বাইরের বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার প্রবণতা আরও কমাতে হবে। আজ মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুর ৬৫তম পর্বে চিকিৎসা সংক্রান্ত ও অন্যান্য সহায়তার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষদের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন।

আজ মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে মোহনপুর মহকুমার লেম্বুছড়া থেকে এসেছেন অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের কনিকা সরকার বিশ্বাস তার মেয়ের জটিল হৃদরোগের চিকিৎসার সাহায্যের জন্য এবং নতুননগর থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রী নমিতা দেবনাথ এসেছে তার বাবার কিডনি সংক্রান্ত জটিল রোগের চিকিৎসা সহায়তার আর্জি নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী কনিকা সরকার বিশ্বাস ও নমিতা দেবনাথের কথা শুনেন এবং তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন।

সমীপেষুতে কৈলাসহরের ইসকপুর থেকে রোসন সিনহা এসেছেন ছোট ভাইয়ের জটিল অপারেশনের সাহায্যের আর্জি নিয়ে, ধলাই জেলার কুলাই থেকে পরেশচন্দ্র রিয়াং এসেছেন তার পরিবারের সদস্য পবিত্র রিয়াং-এর কিডনি জনিত রোগের চিকিৎসার সহায়তার জন্য এবং মোহনপুর বড়কাঁঠাল থেকে এসেছেন মানসী দেববর্মা তার জটিল রোগের চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সমস্যার কথা শুনেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের তাদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধের ব্যবস্থা সহ দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন।

এছাড়াও আগরতলার বড়দোয়ালি থেকে শ্যামল চৌধুরী এসেছেন স্ত্রীর চিকিৎসার সহায়তার জন্য, ডুকলি ব্লক থেকে কলেজ ছাত্রী পায়েল ধর এসেছেন তার মা ও বাবার জটিল রোগের চিকিৎসার সহায়তার জন্য, রাণীরবাজার দেবীনগর থেকে লিটন সাহা এসেছেন চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তার আর্জি নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী তাদের কথা শুনে চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তার আশ্বাস দেন। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুতে আগরতলার গোর্খাবস্তির মাধবরঞ্জন দেব এসেছেন নিজের বাড়ির সমস্যা সমাধানের আবেদন নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী সমস্যার কথা শুনে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।

মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অর্থ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সচিব তপন দাস, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, অটলবিহারী বাজপেয়ী রিজিওন্যাল ক্যান্সার হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. শিরোমণি দেববর্মা, জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার সহ অন্যান্য আধিকারিকগণ।

Recent Posts