মাদক হচ্ছে পারিবারিক সহিংশ্রতা, অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং জনশঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ : রাজ্যপাল

অনলাইন ডেস্ক, ১৮ জুলাই, ২০২৬: মাদকাসক্তি বর্তমানে দেশ বা রাজ্যের সামনে অন্যতম গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এটি কেবল সামাজিক সমস্যা নয়, বরং একটি গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকট, যা সমাজের মৌলিক কাঠামোকেই বিপন্ন করে তুলে দিতে পারে। আজ সকালে আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম কলেজের অডিটোরিয়ামে ‘নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ বিষয়ক রাজ্যন্তরীয় সচেতনতামূলক কর্মশালার উদ্বোধন করে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেডি নাল্লু একথা বলেন।

সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘নেশামুক্ত ভারত’-এর স্বপ্ন শুধুমাত্র একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, মাদক সমাজে ‘তিনটি ডি-ডার্কনেস (অন্ধকার), ডেস্ট্রাকশন (ধ্বংস) এবং ডিভাস্টেশন (বিপর্যয়)’ ডেকে আনে, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমগ্র সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। তিনি সকলকে সতর্ক করে বলেন, কিছু অপশক্তি মাদককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে দেশের যুবসমাজকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তরুণ-তরুণীদের নেশার ফাঁদে ফেলে তাদের স্বাস্থ্য, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করার পাশাপশি পরিবারকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যপাল বলেন, মাদক হচ্ছে পারিবারিক সহিংশ্রতা, অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং জনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ। এটি মানুষের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেয় এবং সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে। তাই এই সামাজিক ব্যাধিকে বিস্তার লাভের আগেই নির্মূল করা অত্যন্ত জরুরি। রাজ্যপাল বলেন, রাজ্যটি আয়তনে ছোট হলেও দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকার কারণে মাদক পাচারের ঝুঁকি বেশি।

তবে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ), আসাম রাইফেলস, ভারতীয় সেনাবাহিনী, ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর), ত্রিপুরা পুলিশ এবং অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা মাদক পাচার রোধে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করে রাজ্যপাল বলেন, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, নেশা প্রতিরোধ এবং যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখতে তাদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যপাল বলেন, শুধুমাত্র সরকারের একার পক্ষে নেশার বিরূদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। এই সংগ্রামে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় নেতা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

কর্মশালার টেকনিক্যাল সেশনে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অঞ্জন ভট্টাচার্য, আগরতলার মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালের নোডাল অফিসার ও পরামর্শদাতা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দীপায়ন সরকার এবং অ্যান্টি-নারকোটিক্স সেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কোয়েল দেববর্মা মাদকাসক্তির ভয়াবহতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব তপন কুমার দাস এবং ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এল, রাঞ্চল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা, মহারাজা বীর বিক্রম কলেজের অধ্যক্ষ ড. অর্জুন গোপ, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী সহ মহারাজা বীর বিক্রম মেমোরিয়াল কলেজ ও আইন কলেজের শিক্ষার্থীগণ।

Recent Posts