রাজ্যভিত্তিক ৭৭তম বনমহোৎসব, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, রোপিত গাছকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে: বন মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১৮ জুলাই, ২০২৬: বন দপ্তরের উদ্যোগে আজ তেলিয়ামুড়ার চিত্রাঙ্গদা কলা কেন্দ্রে রাজ্যভিত্তিক ৭৭তম বনমহোৎসব উদযাপন করা হয়। জল সিঞ্চন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার সরকারি মুখ্য সচেতক বিধায়ক কল্যাণী সাহা রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, খোয়াই জিলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সত্যেন্দ্র চন্দ্র দাস, তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন রূপক সরকার, তেলিয়ামুড়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান দীপা দেব, বিশিষ্ট সমাজসেবী অচিন্ত্য ভট্টাচার্য, বন দপ্তরের টেরিটোরিয়াল বিভাগের সিসিএফ ড. কে. শশীকুমার, খোয়াই জেলার জেলাশাসক রজত পন্থ, খোয়াই জেলার জেলা বনাধিকারিক অশোক কুমার, খোয়াই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাস্টিন জোসেফ-সহ বন দপ্তর ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকগণ।

‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। উদ্বোধনী ভাষণে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, রোপিত গাছকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। তিনি বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বন সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির “এক পেড় মা কে নাম” কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ আন্দোলন আরও প্রবল হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, গত বছর ত্রিপুরায় প্রায় ২০ লক্ষ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। তেলিয়ামুড়া মহকুমার মাইগঙ্গা, উত্তর কৃষ্ণপুর, চাকমাঘাট, ঘিলাতলী ও পূর্ব লক্ষ্মীপুর এলাকায় মানুষ-হাতি সংঘাত হ্রাস করতে ৫টি অ্যান্টি-ডিপ্রেডেশন ক্যাম্প (ওয়াচ টাওয়ার) স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। হাতির জনবসতিতে প্রবেশ রোধে প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ট্রেঞ্চ খনন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে ইন্দো-জার্মান প্রকল্প, জাইকা প্রকল্প-সহ একাধিক বন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বন সংরক্ষণের লক্ষ্যে বন দপ্তরে নতুন কর্মসংস্থানেরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে ত্রিপুরা বিধানসভার সরকারী মুখ্য সচেতক, বিধায়ক কল্যাণী সাহা রায় বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে জনআন্দোলনে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেন, বন ধ্বংসের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

তাই বনমহোৎসবের মতো কর্মসূচি মানুষের মধ্যে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করছে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বন দপ্তরের প্রধান সচিব, (PCCF ও HoFF) আর. কে. সামল। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সহ অতিথিগণ মুঙ্গিয়াকামী এলাকার পাঁচটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে রিভলভিং ফান্ডের চেক তুলে দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য একাধিক ব্যক্তি, জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও সংস্থাকে সম্মানিত করা হয়।

এছাড়া International Day for Biological Diversity-2026 উপলক্ষে আয়োজিত রাজ্যস্তরের আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদেরকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। তেলিয়ামুড়া মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয়ের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ভার্চুয়ালি ৫টি অ্যান্টি-ডিপ্রেডেশন ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিভিন্ন চারা গাছ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সরকারী দপ্তর এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠির পক্ষ থেকে ১৬টি প্রদর্শনী ষ্টল খোলা হয়।

Recent Posts