মস্কো-কিয়েভ সফরে কুশনার-উইটকফের বড় আলোচনা! ইউক্রেন হয়ে ইউরোপে রুশ গ্যাস ফেরানোর উদ্যোগ ট্রাম্পের
রুশ গ্যাস ফের ইউরোপে পাঠানোর উদ্যোগ ট্রাম্পের! যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে মস্কো-কিয়েভকে কাছে আনার নতুন কৌশল
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবার জ্বালানি কূটনীতিকে হাতিয়ার করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। রাশিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ইউরোপে ফের রুশ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। লক্ষ্য, শীতের আগেই মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করা। একইসঙ্গে এই উদ্যোগের মাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চাইছে ওয়াশিংটন।
তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপের একাধিক দেশের আপত্তি রয়েছে। মস্কোর তরফেও এখনও পুরোপুরি সম্মতি মেলেনি। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইউক্রেনের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর এই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন দূত জারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ গত সেপ্টেম্বর মাসে মস্কো ও কিয়েভ সফর করেন। সেখানেই এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাব অনুযায়ী, আমেরিকার কোনও মধ্যস্থতাকারী সংস্থা রাশিয়ার কাছ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস কিনে তা ইউরোপের বাজারে বিক্রি করতে পারে। এতে একদিকে যেমন ইউরোপে রুশ গ্যাসের সরবরাহ ফের চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, অন্যদিকে মার্কিন সংস্থাগুলিও এই বাণিজ্য থেকে লাভবান হতে পারে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় কাজে লাগানো হতে পারে সোভিয়েত আমলে তৈরি পাইপলাইন ব্যবস্থাকে। সাইবেরিয়া থেকে ইউক্রেনের ভূখণ্ড পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছেছে এই পাইপলাইন। এর মাধ্যমে স্লোভাকিয়া হয়ে অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে ফের রুশ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। এই উদ্যোগে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে ইউক্রেনও। কারণ, দেশটির ভূখণ্ডের উপর দিয়ে গ্যাস পরিবহণ হলে ট্রানজিট চার্জ বাবদ অর্থ পাবে কিয়েভ। তবে গ্যাস বিক্রির অর্থ সরাসরি রাশিয়ার হাতে পৌঁছলে তা যুদ্ধের কাজে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই ঝুঁকি এড়াতে তৃতীয় কোনও দেশের কাছে গ্যাস বিক্রির অর্থ জমা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখ্য, এই পাইপলাইন ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করত রাশিয়া। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে রুশ গ্যাস পরিবহণ বন্ধ হয়ে যায়। এবার সেই সরবরাহ ব্যবস্থা ফের চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই পরিকল্পনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ইতিমধ্যেই বিকল্প হিসেবে আমেরিকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) উপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ।
ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন মস্কোর সঙ্গে নতুন করে জ্বালানি বাণিজ্য শুরু করার বিষয়ে আপত্তি রয়েছে ইউরোপের একাধিক নেতার। তাঁদের আশঙ্কা, রুশ গ্যাসের উপর নির্ভরতা ফের বাড়লে ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে এখনও সম্মতি জানায়নি মস্কোও। সব মিলিয়ে রুশ গ্যাসকে হাতিয়ার করে যুদ্ধবিরতির যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প, তা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার।









