নিরাপত্তাকর্মী এবং স্থানীয় নেপালি পথপ্রদর্শকের বারণ শোনেননি পর্যটকেরা। তাতেই বিপত্তি।
প্রবল তুষারপাতে (Snowfall) বিপর্যস্ত নেপালের দুর্গম পার্বত্য এলাকা। সে ফোকসুন্দো ন্যাশনাল পার্কে আটকে পড়েছেন ৪ বাঙালি-সহ ৬ জন ভারতীয় পর্যটক। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করতে জোরকদমে অভিযান চালাচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। নেপাল প্রশাসন সূত্রে খবর, গত শনিবার থেকে ওই এলাকায় আটকে রয়েছেন ছয় ভারতীয়।
দোলপার মুখ্য জেলা আধিকারিক জুনু ধাকাল জানিয়েছেন, পর্যটকরা সে ফোকসুন্দো গ্রামীণ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধো এলাকায় গিয়েছিলেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই এলাকা। সেখানে পৌঁছনোর সময়ই চারপাশ ভারী তুষারে ঢাকা ছিল। এরপরেও অব্যাহত থাকে তুষারপাত। এর জেরেই দুই মহিলা-সহ ছয় ভারতীয় পর্যটক আটকে পড়েন।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় যাওয়ার আগে নিরাপত্তাকর্মী এবং স্থানীয় নেপালি গাইডরা পর্যটকদের সতর্ক করেছিলেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেখানে যেতে নিষেধও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই ধো এলাকায় পৌঁছন পর্যটকরা। পরে প্রবল তুষারপাতের জেরে তাঁদের ফেরার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপর রয়েছে নেপাল প্রশাসন।
উদ্ধারকাজ নিয়ে দোলপার মুখ্য জেলা আধিকারিক জুনু ধাকাল বলেন, “আমরা তাদের আটকে পড়ার এলাকাটি চিহ্নিত করেছি। পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য একটি সেনা হেলিকপ্টার আসছে। আশা করি শীঘ্রই তাঁদের উদ্ধার করতে পারব।” আরও জানান, পর্যটকরা গাইডকে ছাড়াই ভারী তুষারপাতের মধ্যে হ্রদ এলাকার দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। শনিবার রাতে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এখনই ওই ৬ ভারতীয় পর্যটককে নিখোঁজ বলতে রাজি নন জুনু ধাকাল।
নেপাল প্রশাসন সূত্রে ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে আটকে পড়া ছয় ভারতীয় পর্যটকের পরিচয়। তাঁরা হলেন মৌমিতা হালদার, পিয়ালি কোলে, জজলা ত্রিবেদী কুমার, আদিত্য সিং, দীপলীনা বিশ্বাস এবং রাজেশ দে। তাঁদের মধ্যে চারজন বাঙালি বলে জানা গিয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও কঠিন প্রাকৃতিক পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ নিরাপত্তাকর্মীরা। দুর্গম পার্বত্য এলাকা এবং প্রবল তুষারপাতের কারণে উদ্ধার অভিযান যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সে ফোকসুন্দো ন্যাশনাল পার্কে আটকে থাকা পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনতে তৎপর নেপাল প্রশাসন।









