পাইলট প্রকল্পে রাজ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ফুলের বাগান তৈরী করা হবে : বনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১১ জুন, ২০২৪ : ত্রিপুরায় উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ফুলের বাগান তৈরী করা হবে৷ পাইলট প্রকল্পে রাজ্যের খোয়াই জেলার তুলাশিখর ফরেস্ট রেঞ্জের পূর্ব তছায়া এডিসি ভিলেজে এই ফুলের বাগান গড়ে তোলা হবে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা একথা জানান৷ সাংবাদিক সম্মেলনে বনমন্ত্রী বন দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন।

তিনি আশা ব্যক্ত করেন, পাইলট প্রকল্পে এই ফুলের বাগান তৈরী হলে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হবে৷ পরবর্তী সময়ে রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলিতেও এরকম ফুলের বাগান গড়ে তোলা হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, বন মহোৎসব 2024 কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে বন দপ্তর আগামী ৫ জুলাই ৫ মিনিটে সারা রাজ্যে ৫ লাখ গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচিতে বিদ্যালয়, কলেজ, এনজিও সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী জুলাই মাসে এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে বিদ্যালয়, কলেজে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে গাছের চারা দপ্তর থেকে বিতরণ করা হবে৷ সাংবাদিক সম্মেলনে বনমন্ত্রী জানান, রাজ্যে সড়ক, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে জাতীয় সড়ক, রাস্তার পাশে, ফুল ও ফলের গাছ লাগানোর জন্য বন দপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তিনি জানান, বড়মুড়া ইকোপার্কে একটি আধুনিক মানের মাল্টি ইউটিলিটি হল নির্মাণ করারও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আগরতলা হেরিটেজ পার্কের ভিতরে অবস্থিত মঞ্চে প্রতি সপ্তাহান্তে একদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ গুর্খাবস্তিস্থিত নেহেরু পার্কে মাল্টি ইউটিলিটি সেন্ট্রাল হল এবং অ্যাকুরিয়াম তৈরী করার পরিকল্পনা রয়েছে৷ সিপাহীজলা অভয়ারণ্যকে আধুনিক মানের গড়ে তোলার জন্য দপ্তর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আঠারোমুড়া এবং জম্পুই পাহাড়কে কাজে লাগিয়ে ইকো ট্যুারিজম গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন দপ্তরের উদ্যোগে এক্সটানেলি এইডেড প্রজেক্টের অধীনে জনগণের জীবন জীবিকা নির্বাহে গুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে৷ এজন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে৷

সাংবাদিক সম্মেলনে বনমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বন্য হাতির তান্ডব, জীবন ও সম্পত্তি হানির সমস্যা সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই সচিবালয়ে বন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বনমন্ত্রী জানান, যেসব এলাকায় হাতি চলাচল বেশি সেখানে হাতির চলাচলের জন্য আলাদা ট্রেন্স কাটা হবে। বন্য হাতির সমস্যা সমাধানে ৫ টি এন্টি-ডিপরিডেশন ক্যাম্প গঠন করা হবে৷ পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে ২৪ ঘন্টা হাতির নজরদারীর জন্য তেলিয়ামুড়া ফরেষ্ট রেঞ্জ এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার বসানো হবে৷ হাতি চলাচলের জন্য আমবাসা-মুঙ্গিয়াকামী এবং মুঙ্গিয়াকামি-চাকমাঘাট রেঞ্জে ‘আন্ডার পাস’ নির্মাণ করা হবে। এই আন্ডার পাস দিয়ে হাতি চলাচল করতে পারবে।

টাওয়ারের মাধ্যমে হাতির উপর নজরদারীর জন্য এলিফেন্ট ওয়াচার নিয়োগ করা হবে।তিনি আরও জানান, খোয়াই ও গোমতী জেলায় বন্য হাতি লোকালয়ে আসার ফলে জীবন ও সম্পত্তি হানির সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ডিপিআর তৈরী করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য বন সংরক্ষক ড. অভিনাশ কানফাড়ে ও ত্রিপুরা ক্যাম্পার সিইও আর কে সামাল প্রমুখ।