অনলাইন ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৫: ছোট রাজ্য ত্রিপুরায় আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতে চাই। তবেই গড়ে উঠবে এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা। আজ সন্ধ্যায় করবুকের তীর্থমুখে দু’দিনব্যাপী পৌষ সংক্রান্তি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, তীর্থমুখ মেলা ত্রিপুরাবাসীর জন্য গর্বের। এই মেলার এক ঐতিহ্য রয়েছে। প্রতিবছর হাজার হাজার পূণ্যার্থী শুধুমাত্র এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এই দিনটিতে তারা পিতৃ পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে থাকেন। আক্ষরিক অর্থেই জাতি জনজাতির মিলনক্ষেত্র হচ্ছে পৌষ সংক্রান্তি মেলা। যারা ভগবানকে বিশ্বাস করেন তাদের কাছে পৌষ সংক্রান্তি অন্যতম পবিত্র দিন। পৌষ সংক্রান্তিতে সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে আরাধনা করা হয়ে থাকে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মকর সংক্রান্তি ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় নানা নামে পালন করা হয়ে থাকে। তীর্থমুখ পৌষ সংক্রান্তি মেলার একটা সুপ্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। এই দিনে পূণ্য স্নান, অস্থি বিসর্জনের জন্য প্রতিবেশী রাজ্যগুলি থেকেও অনেকে এখানে এসে ভীড় জমিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, রাজ্যের সমস্ত জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে এবং রাজ্য সরকার সে উদ্দেশ্যে কাজ করে চলেছে। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে রাজ্য এগিয়ে যাবে। মেলা মানেই হচ্ছে মিলন ক্ষেত্র। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি এবং সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের ধর্মীয় স্থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন।
এর অঙ্গ হিসেবেই মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরকেও নতুন করে সাজানো হয়েছে। মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরকে নতুন করে সাজানোর পর এই মন্দিরকে দেখতে আসা পূণ্যার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক শাসকই যুগের পর যুগ ভারতকে শাসন করলেও দেশের মূল কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে ধূৎস করা যায়নি। এটাই হচ্ছে ভারতের ঐতিহ্য। ভারতবর্ষ হচ্ছে সনাতনীদের দেশ। রাম মন্দির হচ্ছে এই দেশের আস্থা এবং বিশ্বাসের প্রতীক। স্বামী বিবেকানন্দ ভারতবর্ষের ধর্মীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিলেন। দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষা করার জন্য ব্রত নিয়ে কাজ করে চলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যেও এর ছোঁয়া লেগেছে।
জনজাতিদের উন্নয়নে রাজ্যে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর জনজাতিদের সমাজপতিদের ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এখন তাদের প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৮ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত জনজাতি গোষ্ঠীর ৭ জনকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, তীর্থমুখের পৌষ সংক্রান্তি মেলা জাতি, জনজাতিদের মিলন ক্ষেত্র। এই মেলার গুরুত্ব উভয় অংশের মানুষের কাছে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই মেলার গরিমাকে ধরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সঞ্জয়মানিক ত্রিপুরা বলেন, আগামী দিনে এই মেলাকে আরও আকর্ষনীয় করে তুলতে সবাই মিলে উদ্যোগ নিতে হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলাশাসক রিঙ্কু লাথের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন করবুক বিএসি’র ভাইস চেয়ারম্যান প্রণব ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রঞ্জিত দাস, এমডিসি কংজৎ মগ, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব ড. কে শশী কুমার, গোমতী জেলার পুলিশ সুপার ড. কিরণ কুমার কে, করবুকের মহকুমা শাসক শ্যামজয় ত্রিপুরা প্রমুখ।









