খোয়াইয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে : মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক,, ৩০ জুলাই, ২০২৬: রাজ্য সরকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজ্যবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে রাজ্য সরকার কাজ করছে। আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা এবং উন্নত জনপরিষেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে খোয়াই জেলাও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। খোয়াই নতুন টাউনহলে আজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খোয়াই জেলায় বিভিন্ন পরিকাঠামোর উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়, খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায়, বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

টাউনহলে অনুষ্ঠান শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রী টাউনহল সংলগ্ন ভগৎ সিং জিমনাসিয়ামের আধুনিকীকরণ, শৈশব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং আনন্দনীড় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এ.আই, চালিত স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা করেন। এগুলি সহ মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি ৮ কোটি ৯ লক্ষ ১৩ হাজার টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দূরবর্তী এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে ৮টি স্মার্ট ওপিডি কিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এর মাধ্যমে টেলিমেডিসিন পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে এবং দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষ সহজেই চিকিৎসা পরিষেবা পাবে। শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়নের অংশ হিসেবে খোয়াই সরকারি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে উন্নত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব এবং ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক পরিষেবা আরও গতিশীল করতে খোয়াইয়ের অফিসটিলায় সমাজকল্যাণ দপ্তরের আধুনিক জেলা অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। শিশু শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রযুক্তি নির্ভর করে তুলতে শৈশব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং আনন্দনীড় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে স্মার্ট স্ক্রিন এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেটের মতো আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভগৎ সিং জিমনাসিয়ামের আধুনিকীকরণের ফলে সেখানে জিমের আধুনিক সরঞ্জাম, ট্রেড মিল এবং উন্নত শরীর চর্চার সুবিধা পাওয়া যাবে। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের অঙ্গ হিসেবে খোয়াই জেলার ৮৬০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রুফটপ রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে মহিলা থানা এবং সুভাষ পার্ক সংলগ্ন এলাকায় পিংক টয়লেট চালু করা হয়েছে।

স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ)-এর অধীনে পরিবেশ বান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ব্যাটারিচালিত ট্রিপার চালু করা হয়েছে। এই যানবাহনের মাধ্যমে ভেজা এবং শুকনো বর্জ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ ও পরিবহণ করা যাবে। এই ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে খোয়াই শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর করা সম্ভব হবে। এছাড়াও অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সুবিধার্থে স্বল্প খরচে মরদেহ পরিবহণের জন্য শবদেহ বহনকারী ভ্যান পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগ মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক পদক্ষেপ।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আজ যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে এবং যেসব প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়েছে সেগুলি বাস্তবায়িত হলে খোয়াই জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি বলেন, গত বছর সারা রাজ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি রূপায়ণের ফলে রাজ্যবাসীর আর্থসামাজিক অবস্থার মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সবকা সাথ সবকা বিকাশের পথ নির্দেশনায় রাজ্য সরকার নিরন্তর উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিজেনস কনক্লেভের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১ হাজার ২০০ বিনিয়োগকারী রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য ৪৬৬টি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। ভবিষ্যতে ত্রিপুরা বিনিয়োগের অন্যতম স্থান হিসেবে জায়গা করে নেবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনগুলিতে ত্রিপুরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ পরিষেবা, পর্যটন প্রভৃতি ক্ষেত্রে দেশের উন্নত রাজ্যগুলির সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনায় শিবানি দাসকে ৫০ হাজার টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনায় হেপি দেববর্মাকে ৫০ হাজার টাকার ডেমো চেক তুলে দেন। তিনি অরিমা দেববর্মার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পোষণ কিট তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, রাজ্যের ৫ হাজারেরও বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। শিশুদের আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করতে বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে স্মার্ট ক্লাস রুম চালু করা হয়েছে। শিশুদের প্রাথমিকস্তর থেকে ইংরেজি শিক্ষার সুযোগ করে দিতে ১০০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে দিব্যাঙ্গদের চিহ্নিত করে তাদের সামাজিক ভাতা প্রাপকের আওতায় আনার কাজ চলছে। মানসিকভাবে দিব্যাঙ্গজনদের ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৩ হাজার ৫০০ জন এই ভাতা পাচ্ছেন। গত ৩ বছরে প্রায় ৪৫ হাজার দিব্যাঙ্গজনকে ইউডিআইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে খোয়াই জেলার জেলাশাসক রজত পন্থ সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলার পুলিশ সুপার বি. জগদীশ্বর রেড্ডি, খোয়াই জেলা বন আধিকারিক অশোক কুমার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য রাখেন খোয়াই পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশিস নাথশর্মা।

Recent Posts

খোয়াইয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে : মুখ্যমন্ত্রী