অনলাইন ডেস্ক, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: কৃষি নিয়ে পড়াশোনা মানে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করা। কৃষিক্ষেত্রে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হলে দেশের খাদ্য উৎপাদন, কৃষকের আয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আজ লেম্বুছড়াস্থিত ত্রিপুরা কৃষি কলেজের অডিটোরিয়ামে ত্রিপুরা কৃষি কলেজের ২০তম প্রতিষ্ঠা দিবস এবং ১৬তম স্নাতক দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল একথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি শুধু এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা দিবস নয়, এটি গত ২০ বছরের জ্ঞান, গবেষণা, পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং কৃষির প্রতি দায়বদ্ধতা উদযাপনের দিন। তিনি বলেন, কৃষি শুধু একটি পেশা নয়, এটি সভ্যতার ভিত্তি। ইনফরমেশন টেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তি, শিল্পক্ষেত্র, মহাকাশ বিজ্ঞান আমাদের ভবিষ্যৎ। এর পাশাপাশি কৃষিও আমাদের ভবিষ্যৎ। কৃষি খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা ও গ্রামীণ অর্থনীতি বিকাশের ভবিষ্যৎ। কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতকে বিশ্বের খাদ্যভাণ্ডারে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বিপুল মানবসম্পদ। এই মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী জানান, ২০০৭ সালে মাত্র ১৯ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে ত্রিপুরা কৃষি কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ এই প্রতিষ্ঠান একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটাই প্রতিষ্ঠানের শক্তি, শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও ডেডিকেশন এবং ছাত্রছাত্রীদের পরিশ্রমের ফল। একটি প্রতিষ্ঠান সঠিক দিশায় এগিয়ে চললে একদিন সাফল্য অর্জন করবেই। ত্রিপুরা কৃষি কলেজ তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের তুলনায় বর্তমানে ত্রিপুরা কৃষি কলেজের শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক এক্সপোজারের পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে এই কলেজে বি.এসসি. এগ্রিকালচার (অনার্স)-এর পাশাপাশি এম.এসসি. এগ্রিকালচার পড়াশোনারও ব্যবস্থা রয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ও সাফল্যের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরে ২৫২ জন এগ্রিকালচার অফিসার এবং ৪০৯ জন এগ্রিকালচার অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষিত যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে কৃষি পরিকাঠামোরও সম্প্রসারণ হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা মৎস্য কলেজের ডিন অধ্যাপক অরুণ ভাই প্যাটেল, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, অতিরিক্ত অর্থ সচিব ড. আকিঞ্চন সরকার, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা ড. পি. বি. জামাতিয়া, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সমীর কুমার শীল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা কৃষি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেবাশিস সেন। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ড. ই. রিয়াং। অনুষ্ঠানে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের নির্বাচিত কৃষি আধিকারিকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়াও স্নাতক শিক্ষার্থীদের বি.এসসি. (অনার্স) কৃষি ডিগ্রি প্রদান করা হয়।









