জি রাম জি আইনের সুবিধাগুলি রাজ্যে সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রগতি ত্রিপুরা, ০২ জুলাই, ২০২৬: সারা দেশের সঙ্গে গতকাল ত্রিপুরাতেও বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার ও আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বা ভিবি জি রামজি আইন চালু হয়েছে। আজ অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি জেলার মুক্কাভারিপাল্লে গ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ। বিভিন্ন রাজ্যে এই অনুষ্ঠান সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানেও তিরুপতি জেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হয়।

নজরুল কলাক্ষেত্রে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষামন্ত্রী টিংকু রায়। মূল অনুষ্ঠান শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ভারতের গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আজ এক নতুন যুগের সূচনা হলো। গ্রামীণ কর্মসংস্থান, জীবন জীবিকার সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই আইন সারা দেশের সাথে আমাদের রাজ্যেও কার্যকর হয়েছে। নতুন এই আইনে প্রতিটি যোগ্য গ্রামীণ পরিবারকে সর্বাধিক ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের মজুরি হবে ৩০০ টাকা। তিনি বলেন, রাজ্যে এই আইন কার্যকর করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গ্রামীণ জনগণকে সচেতন করতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় সেই লক্ষ্যে বছরে ৬০ দিন পিক এগ্রিকালচারেল সিজন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই সময়ে জি রামজি কর্মসূচির কাজ স্থগিত থাকবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যপূরণে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন এই আইনের সুবিধাগুলি রাজ্যে সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই কাজে সহযোগিতা করতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের এম.ডি.সি. গীতা দেববর্মা, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল। নতুন এই আইনের সাফল্য কামনা করে বক্তব্য রাখেন গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব সুভাষ চন্দ্র সাহা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার। অতিরিক্ত জেলাশাসক অরূপ দেব জি রাম জি আইনের সুবিধাগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে পুরাতন আগরতলা ব্লকের মা মনসা স্বসহায়ক দলের সদস্যা রত্না দাস এই কর্মসূচির জাতীয় পর্যায়ের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তার আত্মনির্ভর হওয়ার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

Recent Posts

গোমতী নদীর জল ব্যবহার করে আগরতলায় প্রস্তাবিত, জল সরবরাহ ব্যবস্থা সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, আগামী দিনের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে সারা রাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণে মিশন মোডে কাজ করতে হবে