সেন্ট্রাল রোড শিববাড়ি পুকুরের সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১১ জুলাই, ২০২৬: আগরতলার ঐতিহ্যবাহী শিববাড়ি পুকুরের সৌন্দর্যায়ন বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুখী কর্মযজ্ঞ ও উন্নত নাগরিক পরিষেবা প্রদানের এক অন্যতম পদক্ষেপ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও ধর্মীয় পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ আগরতলার সেন্ট্রাল রোড শিববাড়ি পুকুরের পুনরুজ্জীবন ও সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। অদ্ভুত ২.০ প্রকল্পে শিববাড়ি মন্দির প্রাঙ্গনে এই পুনরুজ্জীবন ও সৌন্দর্যায়নের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নকে কেবল পরিকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি, উন্নত নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

শিববাড়ি পুকুরের উন্নয়ন সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকাটি নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন ও ভব্য পরিবেশে রূপান্তরিত হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যটন কেন্দ্রগুলির পাশাপাশি ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সোমনাথ মন্দিরের উন্নয়ন থেকে শুরু করে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের নব রূপদান-প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেক মানুষেরই সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সুসংগঠিত পরিবেশে বসবাসের আকাঙ্ক্ষা থাকে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার উন্নত নাগরিক পরিষেবা প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করছে। রাজ্যের উন্নয়ন এবং বিশেষ করে আগরতলা শহরের পরিবর্তন আজ দেশব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে। তিনি এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ত্রিপুরার “Most Clean State in India (Small States Category)” সম্মান অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এটি পরিচ্ছন্নতা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে রাজ্যের সাফল্যের স্বীকৃতি। তিনি বলেন, অতীতে যারা এই শিববাড়ি দেখেছেন, তারা বর্তমানে আমূল পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করবেন। বর্তমান সরকার ইতিবাচক ও মূল্যবোধভিত্তিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। তাই সরকার ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির উন্নয়নের পাশাপাশি সেগুলির পবিত্রতা, মর্যাদা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও দায়বদ্ধ।

মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন নগর উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে আগরতলা শহরের প্রায় ২৪টি পুকুর, জলাশয় ও লেইকের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নে প্রায় ১৩৭ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (আরবান), আগরতলা স্মার্ট সিটি মিশন, টুডা-র বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প, আধুনিক জল সরবরাহ ব্যবস্থা, নগর পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন নাগরিকমুখী প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগরতলা শহর নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতেও আরও পুকুর ও জলাশয়ের উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যায়নের কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের বর্তমান সরকার উন্নত নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় থাকা শিববাড়ি পুকুর আজ নতুন রূপ পেয়েছে। একইভাবে আগরতলা শহরের বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়ের সংস্কার, পুনরুদ্ধার এবং সৌন্দর্যায়নের কাজ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা, পরিকল্পনা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই বর্তমান সরকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা জল বোর্ডের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক মিহিরকান্তি গোপ। ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন কর্পোরেটর রত্না দত্ত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ, আগরতলা পুরনিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্পোরেটরগণ। উল্লেখ্য, অদ্ভুত ২.০ প্রকল্পে শিববাড়ি পুকুরের পুনরুজ্জীবন ও সৌন্দর্যায়নের কাজে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৫৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩২৩ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় পুকুরের দূষিত জল নিষ্কাশন, পলি অপসারণ ও খনন, রিটেইনিং ওয়াল ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, ওরনামেন্টাল গ্রিল স্থাপন, সবুজায়ন, ঘাট, হাঁটার পথ, নিকাশি ব্যবস্থা, বসার স্থান এবং আধুনিক আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

Recent Posts

টিআইএফটি’র ওয়াররুমে বর্ষাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে পরিকল্পিত উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের উপর মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্ব আরোপ