২৬তম জাতীয় মৎস্যচাষি দিবস, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মাছ চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে: বনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১০ জুলাই, ২০২৬: রাজ্যে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যচাষিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা রূপায়ণ করছে। রাজ্যে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ ১৭ হাজার মেট্রিক টন মাছের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। তাতে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি থাকছে যা বহিরাজা থেকে আমদানি করে পূরণ করতে হচ্ছে। আজ লেম্বুছড়াস্থিত মৎস্য মহাবিদ্যালয়ে ২৬তম জাতীয় মৎস্যচাষি দিবস এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টেকসই নীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) গড়েতোলার লক্ষ্যে মৎস্যচাষিদের ক্ষমতায়ণ শীর্ষক কৃষক-বিজ্ঞানী কর্মশালার উদ্বোধন করে বন দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা একথা বলেন।

বনমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে এখনও চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি থাকায় মৎস্যচাষের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্যচাষিদের আর্থিক সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, মৎস্যচাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। মাছ চাষের উন্নতিতে মৎস্যচাষিদের এই সুযোগ সুবিধাগুলি গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে কম জায়গায় অধিক পরিমাণে মাছ উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে বিজ্ঞানীদের আরও সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মাছ চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি এর বাজারজাত করণের জন্যও উদ্যোগ নিতে হবে। রাজ্যের আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে মৎস্যচাষে যুক্ত হয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যচাষে রাজ্যকে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং নিজে আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য বনমন্ত্রী আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইসিএআর আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান ড. বুরহান ইউ চৌধুরী, লেম্বুছড়াস্থিত কৃষি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. দেবাশিষ সেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা অঞ্জন সেনগুপ্ত প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৎস্য মহাবিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক এ বি প্যাটেল। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাগর চন্দ্র মন্ডল। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার সফল মৎস্যচাষি বিশ্বজিৎ দাসকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ১৫০ জন মৎস্যচাষির মধ্যে মাছের খাদ্য ও পোনা বিতরণ করা হয়। বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা একটি প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কর্মশালায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী ও মৎস্যচাষিদের মধ্যে মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Recent Posts

টিআইএফটি’র ওয়াররুমে বর্ষাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে পরিকল্পিত উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের উপর মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্ব আরোপ