ন্যূনতম সহায়কমূল্যে ধান ক্রয় অনুষ্ঠানের সুচনা, এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৬১ হাজার ২৬৬ মেট্রিকটন ধান কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১০ জুলাই, ২০২৬: রাজ্যের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে। এক্ষেত্রে কৃষকদের আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান সহ নানা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আজ কাকড়াবন দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় মাঠে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়কমূল্যে ধান ক্রয় অনুষ্ঠানের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ মূলত কৃষি নির্ভর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছেন। রাজ্য সরকারও কৃষকদের আর্থিকভাবে উন্নয়ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তাদের প্রদান করছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ফসল বীমা যোজনা, পি.এম. কিষাণ সম্মাননিধি, পিএম কুসুম যোজনা ইত্যাদি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পগুলির সুবিধা কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে কৃষকদের আর্থিকভাবে উন্নয়ন করার কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। ফলে কৃষকদেরও কৃষিকাজে অনীহা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্য সরকার কৃষকদের কৃষিকাজে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নানা সুবিধা প্রদান করছে। ফলে কৃষকরা পতিত জমিগুলি উদ্ধার করে পুনরায় কৃষিকাজ শুরু করছেন। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান রাজ্য সরকার ২০১৮ সাল থেকে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়কমূল্যে ধান কেনা শুরু করেছে। ফলে এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৬১ হাজার ২৬৯ মেট্রিকটন ধান কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে। তাতে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ৫২০ কোটি টাকা পৌঁছানো হয়েছে। উপকৃত হয়েছেন ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৬৬ জন কৃষক। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পি.এম. কিষাণ সম্মাননিধির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত রাজ্যের কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ৯৬৯ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন পর্যন্ত ১০ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। এছাড়াও কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪ লক্ষ ৫৭ হাজারের উপর কৃষক এবং সয়েল হেলথ কার্ডের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫৩ হাজারেরও বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

পাশাপাশি কৃষকদের চাষাবাদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার ভর্তুকিতে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদান করছে। অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর কৃষকদের কাছ থেকে বছরে দু’বার ন্যূনতম সহায়কমূল্যে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। বর্তমানে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়কমূল্যে প্রতি কুইন্টাল ধান ২,৩৬৯ টাকা দরে ক্রয় করা হচ্ছে। তাতে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজেও তারা উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষকদের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় নানা প্রকল্পের সুবিধাও তাদের প্রদান করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, কাকড়াবন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সুপ্রিয়া সাহা, গোমতী জেলার জেলাশাসক রিংকু লাখের, খাদ্য দপ্তরের প্রধান সচিব শান্তনু প্রমুখ।

Recent Posts

টিআইএফটি’র ওয়াররুমে বর্ষাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে পরিকল্পিত উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের উপর মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্ব আরোপ