কমিউনিটি হেলথ অফিসার নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় কোনও ধরণের অনিয়ম হয়নি : স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব

অনলাইন ডেস্ক,, ৩০ জুলাই, ২০২৬: জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে কমিউনিটি হেলথ অফিসার নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় কোনও ধরণের অনিয়ম হয়নি। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে ও সুন্দরভাবেই এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে কমিউনিটি হেলথ অফিসার নিয়োগের পরীক্ষা সংক্রান্ত এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে গত ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ১১ মাসের চুক্তির ভিত্তিতে ১২৬ জন কমিউনিটি হেলথ অফিসার নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আগে বহুবার কমিউনিটি হেলথ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।

সে সময় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় ওয়াক ইন ইন্টারভিউর মাধ্যমে নিয়োগ করা হতো। গত চার-পাঁচ বছরে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ করা হচ্ছে। এই বছরও ৩,৯৩৭ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। মোট ২ হাজার ৬১৪ জন এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। গত ১৫ জুলাই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। গত সাড়ে পাঁচ মাস পর্যন্ত কোনও অভিযোগ এই পরীক্ষাকে ঘিরে পাওয়া যায়নি। ফলপ্রকাশের ৫ দিন পর গত ২০ জুলাই, ২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে বলে প্রথম অভিযোগ পাওয়া যায়। তাতে বলা হয় পরীক্ষা ওএমআর শিটে করা হয়নি। যেহেতু চুক্তিভিত্তিক পদের জন্য এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেই জন্য ওএমআর শিট ব্যবহার করা হয়নি বলে স্বাস্থ্য সচিব জানান। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুসারে, পরীক্ষার্থী যেমন লিখেছেন তেমন নম্বর উঠেনি। এই অভিযোগও ঠিক নয়। পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং-এর ব্যবস্থাও ছিল।

তাছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে যাওয়ার বিষয়, হোয়াটসঅ্যাপে পরীক্ষার কিছু প্রশ্ন পাওয়া ও ভিডিও ক্লিপিংস সম্পর্কে যে অভিযোগ উঠেছে তার সবকিছুর তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে এই সকল অভিযোগের কোনও সুস্পষ্ট ও সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজটি পাওয়া গেছে সেটি পরীক্ষার আগের দিন অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ এ পোস্ট করা হয়। যার কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছিল তাকে দু’বার ডাকানো হয়। প্রথমবার সে মোবাইল হারিয়ে গেছে বলে জানায়। দ্বিতীয়বার সে জানায় তার বন্ধুদের মধ্যে একজন মুখে মুখে তাকে সম্ভাবনাময় প্রশ্নগুলো বলেছিল। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা যায় এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি প্রশ্ন পরীক্ষায় এসেছে। উল্লেখ্য এর আগে বহুবার কমিউনিটি হেলথ অফিসার পদে পরীক্ষা হয়েছে, অন্যান্য পদে নিয়োগের জন্যও পরীক্ষা হচ্ছে। এগুলো থেকে পাঁচটি সাধারণ প্রশ্ন রিপিট করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে কিছু সেন্টারের নাম এবং কিছু পরীক্ষার্থীর নাম দেওয়া হয়েছিল। মোবাইল নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে জানানো যাচ্ছে যে, যে ১২টি সেন্টার ছিল তার মধ্যে সবচেয়ে বড় সেন্টারে প্রায় সাড়ে তিনশ পরীক্ষার্থী ছিলেন। যে দশ বারো জন ভালো নম্বর পেয়েছেন, তাদের রোল নাম্বার পর্যায়ক্রমে ছিল না এবং তারা ভিন্ন ভিন্ন হলে পরীক্ষা দিয়েছেন। যেখান থেকে প্রশ্ন সেট হয়েছে, টাইপ হয়েছে, গভর্নমেন্ট প্রেস থেকে ছাপানো হয়েছে এবং পরীক্ষার সেন্টারে যেভাবে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে, সেসব বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা সহ বিস্তারিত তদন্তের শেষে দেখা যায় যে এই প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে বলেন, বর্তমানে দেশের পেপার লিক বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর।

কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এধরণের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে তার জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন করছেন। রাজ্য সরকারের নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যবস্থা সম্পর্কে রাজ্যে সাধারণ জনগণের মধ্যে যাতে কোনও ধরণের বিরূপ মনোভাব এবং সন্দেহের বাতাবরণ সৃষ্টি না হয় সেই জন্য সকলের প্রতি স্বাস্থ্য সচিব সাংবাদিক সম্মেলনে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যদি প্রশ্নপত্র লিকেজ হবার সম্ভাবনা থাকত এবং যদি তেমনটা হতো পরীক্ষা ক্যান্সেল করা হতো। কিন্তু এখানে অনেকে পরীক্ষা দিয়েছেন। তারা পরিশ্রম করে সফল হয়েছেন। তাছাড়া প্রশ্নপত্র তৈরি, পরিবহণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত সকল পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্তের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং সমস্ত ধরণের পারিপার্শ্বিক তদন্ত অনুযায়ী দেখা যায় কমিউনিটি হেলথ অফিসার নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় কোনও ধরণের কারচুপি বা অনিয়ম হয়নি, স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা সংঘটিত হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের এমডি সাজু বাহিদ এ. এবং স্বাস্থ্য অধিকারের যুগ্ম অধিকর্তা ডা. অলক দেওয়ান।

 

Recent Posts

খোয়াইয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে : মুখ্যমন্ত্রী