তাঁর কর্ম, সৃষ্টিশীলতা ও সঙ্গীতের আদর্শকে অনুসরণ করে সঙ্গীত ও সংস্কৃতির চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে শচীন দেববর্মণের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি : মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ০১ অক্টোবর, ২০২৬: সুর সম্রাট কুমার শচীন দেববর্মণ ছিলেন ভারতীয় সঙ্গীত জগতের একজন কিংবদন্তী সঙ্গীত পরিচালক। তাঁর ভূবনমোহিনী কন্ঠস্বর ও গায়কী আজও সঙ্গীত প্রেমীদের মুগ্ধ করে চলেছে। ত্রিপুরার পরিচয় ও গৌরবের প্রসঙ্গ উঠলে শচীন দেববর্মণের নাম আজও শ্রদ্ধা ও গর্বের সাথে উচ্চারিত হয়। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে শচীন দেববর্মণের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এই কথা বলেন। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী এবং অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিগণ শচীন দেববর্মণের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পাঞ্জলী প্রদানের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ পরিবারের সদস্য হয়েও তিনি সাধারণ মানুষের জীবন, গ্রামবাংলার প্রকৃতি এবং লোকসঙ্গীতের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিলেন। তাঁর পিতা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মণ ছিলেন তাঁর প্রথম সঙ্গীত গুরু। পিতার কাছ থেকেই তিনি ধ্রুপদী সঙ্গীত ও সেতারের শিক্ষা লাভ করেন। নদী, নৌকা, মাঝি-মাল্লাদের গান এবং গ্রামীণ জীবনের সুর তাঁর পরবর্তী সঙ্গীতসৃষ্টিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি বলেন, রাজকীয় ঐশ্বর্য ও সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্বেও শচীন দেববর্মণ নিজে সঙ্গীত সাধনার পথ বেছে নিয়েছিলেন। কলকাতায় গিয়ে সাধারণ জীবনযাপন করে তিনি সঙ্গীতচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর সঙ্গীতগুরুদের মধ্যে কৃষ্ণচন্দ্র দে, ওস্তাদ বাদল খাঁ, উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ এবং ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখযোগ্য। শচীন দেববর্মণের সঙ্গীত জীবনে তাঁর সহধর্মিণী মীরা দেববর্মণের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও মুখ্যমন্ত্রী ভাষণে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শচীনকর্তার বহু সুর ও সঙ্গীত সৃষ্টির নেপথ্যে মীরা দেববর্মণের সহযোগিতা ছিল, যা অনেকের কাছেই অজানা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯২৬ সালে কলকাতা বেতারে শচীন দেববর্মণের প্রথম পরিবেশন এবং ১৯৩২ সালে এইচ এম ভি-তে তাঁর গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। পরবর্তী কালে বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর সুর ও সঙ্গীত ভারতীয় সঙ্গীতকে নতুন মাত্রা প্রদান করে। শচীন দেববর্মণের সঙ্গীতের বৈশিষ্ট্য হিসেবে লোকসঙ্গীত, ধ্রুপদী সঙ্গীত এবং পূর্ববঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের লোক সুরের অনন্য সংমিশ্রণের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সৃষ্টির এই স্বাতন্ত্র্য তাঁকে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে একটি বিশেষ পরিচিত এনে দিয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, সঙ্গীত নাটক একাডেমি পুরস্কার এবং পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র জন্মজয়ন্তীতে শচীন দেববর্মণকে স্মরণ করলেই হবে না । তাঁর কর্ম, সৃষ্টিশীলতা ও সঙ্গীতের আদর্শকে অনুসরণ করে সঙ্গীত ও সংস্কৃতির চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে শচীন দেববর্মণের সঙ্গীত জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন শচীন দেববর্মণ সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীগণ।

Recent Posts