খোয়াইয়ে ৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী, জেলা, নগর থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত ও ভিলেজ এলাকা পর্যন্ত রাজ্য সরকার পরিকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে

অনলাইন ডেস্ক, ১২ জুন, ২০২৫: জেলা, নগর থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত ও ভিলেজ এলাকা পর্যন্ত রাজ্য সরকার পরিকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। এবছর এখন পর্যন্ত সারা রাজ্যে ৫৮০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ পদ্মবিল ব্লকের বাইজলবাড়ি নতুন থানা ও ৫০ আসন বিশিষ্ট নবনির্মিত জনজাতি ছাত্রাবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

বাইজলবাড়ি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি মুঙ্গিয়াকামী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ব্লক পাবলিক হেলথ ইউনিট, তুলাশিখর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ব্লক পাবলিক হেলথ ইউনিট, তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি কিউবিক্যাল চেম্বার, তেলিয়ামুড়া ব্লকের নবনির্মিত অতিরিক্ত অফিসবাড়ি মেথারায়বাড়ি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে নবনির্মিত শ্রেণীকক্ষ, খোয়াই ব্লকের ধলাবিলস্থিত ডিস্ট্রিক্ট পঞ্চায়েত রিসোর্স সেন্টারে নবনির্মিত অফিসবাড়িরও উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পগুলি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি টাকা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী বাইজলবাড়ি ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক শ্রী অনুরাগ, খোয়াই জেলার জেলাশাসক রজত পন্থ সহ পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার মিশ্র সংস্কৃতি ও সৌভ্রাতৃত্ব সারা দেশেই বিশেষ সম্মান লাভ করেছে। সব অংশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হলে উন্নয়নও গতিশীল হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে ও অনুপ্রেরণায় রাজ্যেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ রূপায়ণ করা হচ্ছে। রাজ্যের মানুষকে স্বনির্ভর করতে ইতিমধ্যেই ৫৪ হাজার স্বসহায়ক দল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৯১ হাজার লাখপতি দিদি হয়েছেন। সারা রাজ্যেই পানীয়জলের সংযোগ, বাসগৃহ, শৌচালয় নির্মাণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় প্রতিটি পরিবার বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা করাতে পারছেন। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনাও চালু করা হয়েছে।

রাজ্যবাসীর আর্থ সামাজিক মানোন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী প্রাণীসম্পদ যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী মৎস্য বিকাশ যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী নগরোন্নয়ন প্রকল্প প্রভৃতি রূপায়ণ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনজাতি অংশের মানুষের উন্নয়নে রাজ্য সরকার বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছে। এডিসি এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে। শিশুদের জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছাত্রাবাস, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে মার্কেটিং সেন্টার ইত্যাদি নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। জনজাতিদের জীবনমান উন্নয়নে ১,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। গত অর্থবছরে এডিসি’র বাজেটে অতিরিক্ত ১৬৯ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার রাজ্যের নিজস্ব সম্পদ যেমন, আগর, রাবার, ভূগর্ভস্থ গ্যাস, কৃষি প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে রাজ্যের মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। এই কাজে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যে ব্যাপক উন্নয়নের কাজ চলছে। উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রাখতে সব অংশের মানুষকে এগিয়ে আসার জন্য তিনি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা, জেলাশাসক রজত পন্থ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায় (দত্ত)।

Recent Posts

এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালের ২২তম প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এজিএমসি শুধু চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং সুপার স্পেশালিটি পরিষেবার ক্ষেত্রেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে

পঞ্চম রাজ্যভিত্তিক কুরাস (কুস্তি) ও দক্ষিণ জেলাভিত্তিক নেশামুক্ত ফুটবল প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী, নেশার বিরুদ্ধে রাজ্যে সামাজিক গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে