অনলাইন ডেস্ক, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইঞ্জিনিয়ার বা প্রকৌশলীদের দক্ষতা ও কাজের উপর আস্থা রেখেই ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। বিকশিত ভারত ও বিকশিত ত্রিপুরা গড়তে প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা ও পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়ন করতে প্রকৌশলীদের এবং দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে। আজ প্রজ্ঞাভবনে ৫৯তম ইঞ্জিনিয়ার দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ভারত গড়ে তোলার কাজে এম বিশ্বেশ্বরাইয়ার অবদান অপরিসীম। এ বিষয়ে তিনি বিশ্বেশ্বরাইয়ার কর্মজীবনের কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে রাজ্য সরকারও পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রকৃতিগত কারণেই রাজ্যে শীতকালীন সময়ে চার মাস বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার উৎকৃষ্ট সময়। বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণে এই সময়টাকে বিশেষভাবে কাজে লাগাতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অত্যাধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
রাজ্যের ও দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইঞ্জিনিয়ারদের বিভিন্ন উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুখ্যমন্ত্রী চেনাব রেল সেতু সহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক নির্মাণ কাজের কথাও উল্লেখ করেন যা সারা বিশ্বে সমাদৃত। প্রসঙ্গক্রমে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারদের সঠিক পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের ফলেই রাজ্যের পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন ও উন্নত হয়েছে। বিধানসভা থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত ই-অফিস ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার, ভারতমালা প্রকল্পে রিং রোড গড়ে তোলার কথাও মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৌশলীগণ হলেন ভারতের উন্নয়নের মেরুদন্ড। অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি মুখ্যসচিব জে কে সিনহা বলেন, প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এম বিশ্বেশ্বরাইয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং। বক্তব্য রাখেন আইআইটি খরগপুরের অধিকর্তা ড. সুমন চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বেস্ট ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে ৫ জন অধ্যাপককে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করেন।
বেস্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ৫ জন ইঞ্জিনিয়ারকে সম্মাননা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার চিন্ময় দেবনাথ ও শিবির দেববর্মাকে ইঞ্জিনিয়ার অব দ্য ইয়ার ২০২৬ সম্মানে পুরস্কৃত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী ভিআইপি রোডে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সের অফিসের জন্য নির্ধারিত একটি জায়গাকে আইইআই ল্যান্ড এবং হাউজিং বোর্ড সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ডটিকে আইইআই বাসস্ট্যান্ড নামকরণের ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিগণ এম বিশ্বেশ্বরাইয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। মুখ্যমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উপলক্ষ্যে আয়োজিত রক্তদান শিবির পরিদর্শন করেন এবং রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পূর্ত দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকার অনুপ কুমার দাস। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পূর্ত দপ্তরের যুগ্ম সচিব রাজীব পাল, ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স ত্রিপুরা শাখার চেয়ারম্যান পরমানন্দ সরকার ব্যানার্জি।









