অনলাইন ডেস্ক,১৫ জুলাই , ২০২৬: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের নেফ্রোলজি ডিপার্টমেন্টে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভবপর হয়েছে। এই নিয়ে পর পর সাতটি সফল কিডনি প্রতিস্থাপনের পর গতকাল অষ্টম এবং আজ নবম কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন বিশেষজ্ঞ নেফ্রোলজিস্টগণ। আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতাল ও মনিপুরের শিজা হাসপাতালের যৌথ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এই অষ্টম ও নবম কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে করা হয়েছে।
গতকাল ধলাই জেলার ছৈলেংটার ২২ বৎসর বয়সী এক যুবকের দেহে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। তাকে কিডনি দান করেছেন ৪৫ বৎসর বয়সী তার মা। প্রতিস্থাপনের পর দাতা ও গ্রহীতা অর্থাৎ মা ও ছেলে উভয়েই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছেন। আজ সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জের পদ্মনগর এলাকার ২৩ বৎসর বয়সী এক যুবকের সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি হল আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের নবমতম কিডনি প্রতিস্থাপন। এই ক্ষেত্রেও ছেলেকে কিডনি দান করলেন যুবকটির মা। তার মায়ের বয়সও ৪৫।
অষ্টম ও নবম কিডনি প্রতিস্থাপনে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের নেফ্রোলজি ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ মানস গোপ, ডাঃ সমরেশ পাল, ডাঃ রেশমি দাস এবং ডাঃ উদয়ন সাহা, ইউরোলজি ডিপার্টমেন্টের ডাঃ মুকুট দেবনাথ, ডাঃ বিজিত লোধ এবং ডাঃ জীবন দেবনাথ, এছাড়া অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছিলেন ডাঃ ভাস্কর মজুমদার ও ডাঃ তপন দেববর্মা। শিজা হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর পক্ষে ছিলেন কনসালটেন্ট ইউরোলজিস্ট এন্ড ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডাঃ পাওনাম সমরেন্দ্র সিং, ডাঃ মহারাবাম মাহালে, কনসালটেন্ট অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃতায়েনজাম কেনেডি সিং ও ডিএনবি অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃ শ্রেয়া কুমার দুবে।
এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় জিবিপি হাসপাতাল এবং শিজা হাসপাতালের অন্যান্য নার্সিং অফিসার, ফ্লোর নার্স এবং ওটি টেকনিশিয়ানরা যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেন। সমগ্র প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারে সম্পূর্ণ তদারকিতে ছিলেন সিনিয়র নার্সিং অফিসার তপতী চক্রবর্তী ও সঞ্জীব কুমার দাস। উভয় ক্ষেত্রেই কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় অস্ত্রোপচার শুরু হয় সকাল ৯ টায় এবং শেষ হয় বিকাল ৩ টায়, অর্থাৎ প্রায় ৬ ঘণ্টা ব্যাপি এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া চলে। উল্লেখ্য, এই কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি মেনে সংশ্লিষ্ট অথরাইজেশন কমিটির বিবেচনা ও অনুমতি পত্র প্রদানের ভিত্তিতেই রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকে।
তবে অবশ্যই দাতা ও গ্রহীতার কিডনি ম্যাচ করা সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালে প্রথম থেকে নবম পর্যন্ত সবগুলো কিডনি প্রতিস্থাপনই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। এছাড়া মণিপুরের শিজা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকদের যে টিম রাজ্যে আসেন তাদের আসা-যাওয়া বাবদ যাবতীয় খরচ ত্রিপুরা সরকার বহন করে থাকে। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।








