দিব্যাঙ্গজনদের কল্যাণ ও ক্ষমতায়ণে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সমানভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ: রাজ্যপাল

অনলাইন ডেস্ক, ১৯ জুলাই, ২০২৬ : ত্রিপুরা সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর একটি রাজ্য। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজ্য এগিয়ে চলেছে। তবে প্রকৃত উন্নয়নের পরিমাপ হবে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়ণন কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে তার উপর। আজ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১নং হলে দিব্যাঙ্গজনদের কল্যাণে আয়োজিত তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি ‘অন্তরীপ ১.০’ এর উদ্বোধন করে একথা বলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেডি নান্নু। দ্য স্মাইল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদের কল্যাণ ও ক্ষমতায়ণের জন্য তহবিল সংগ্রহ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, দিব্যাঙ্গজনরা সমাজের বোঝা নন বরং আমাদের শক্তি। দিব্যাঙ্গজনদের কল্যাণ ও ক্ষমতায়ণে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সমানভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। ত্রিপুরা স্টেট পলিসি ফর এমপাওয়ারমেন্ট অব পার্সন্স উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ (দিব্যাঙ্গজন)-২০২৪ এর উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী নীতি, যার লক্ষ্য এমন একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমঅধিকারভিত্তিক অংশীদার হতে পারবেন। তিনি বলেন, সরকার কল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গীর দিকে অগ্রসর হয়েছে, যাতে মর্যাদা, সমান সুযোগ, সহজপ্রাপ্যতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা যায়। রাজ্যপাল বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়ণের জন্য সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি যোগ্য দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিকে ইউনিক ডিজঅ্যাবিলিটি আইডেন্টিটি (ইউডিআইডি) কার্ড প্রদান, যাতে তারা প্রাপ্য সরকারি সুবিধা পান। দিব্যাঙ্গজনদের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করতে মাসিক সামাজিক ভাতা প্রদান ইত্যাদি।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির অবদানের প্রশংসা করে রাজ্যপাল বলেন, দিব্যাঙ্গজনদের কল্যাণে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) যে উল্লেখযোগ্য কাজ করে চলেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি সংস্থা দিব্যাঙ্গ শিশুদের জন্য চিকিৎসা শিবির পরিচালনা করছে। ন্যাশনাল ট্রাস্টের অধীনে স্টেট নোডাল এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এবং বৃত্তি, পুনর্বাসন পরিষেবা ও আশ্রয়গৃহের সুবিধা প্রদান করছে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই সংস্থাগুলির অবদান অত্যন্ত মূল্যবান। রাজ্যপাল ‘অন্তরীপ ১.০’ অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের জন্য দ্য স্মাইল ফাউন্ডেশনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দিব্যাঙ্গজনদের কল্যাণ, ক্ষমতায়ন ও সমাজের মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সম্মিলিত সামাজিক দায়বদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে অব্যাহতভাবে সহযোগিতার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার মুখ্য সচেতক ও বিধায়ক কল্যাণী রায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদের সহায়তায় আরও বেশি জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহানুভূতিশীল উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন দ্য স্মাইল ফাউন্ডেশনের সদস্যা পুষ্পিতা দাস। তিনি ‘অন্তরীপ ১.০’-এর উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই উপলক্ষে রাজ্যপাল দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর শহিদ সঞ্জয় দেবনাথ, শহিদ প্রশান্ত দেব এবং শহিদ শুভঙ্কর ভৌমিকের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধিত করেন। এছাড়াও দেশের প্রতি নিষ্ঠাপূর্ণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী সদস্য তিলক ঠাকুরীকেও তিনি সম্মাননা প্রদান করেন। ত্রিপুরার প্রথম এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার বিপাশা হ্রাংখলকেও তাঁর অসাধারণ সাফল্য এবং রাজ্যের গৌরব বৃদ্ধি করার জন্য সংবর্ধিত করা হয়। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। লোক ভবন থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।

Recent Posts