অনলাইন ডেস্ক, ২৯ জুলাই, ২০২৬: জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমেই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুফল এবং সরকারি পরিষেবা সঠিকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এই সমন্বয়ে কোনও ধরনের ঘাটতি যেন না থাকে, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। আজ কৈলাসহর সার্কিট হাউসের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ঊনকোটি জেলায় বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনা সভায় একথা বলেন পরিবহণ ও খাদ্য, জনসংভরণ দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
পর্যালোচনা সভায় তিনি বলেন, জনগণ উন্নয়ন ও সরকারি পরিষেবার জন্য জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করেন এবং প্রশাসন সেই পরিষেবা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে। তাই উভয়ের মধ্যে সমন্বয়ের কোনও ঘাটতি থাকলে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই জেলার প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। খাদ্যমন্ত্রী জানান, এ ধরনের জেলাভিত্তিক সমন্বয় ও পর্যালোচনা সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি সভায় পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে জেলার উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জেলায় একটি বৃহৎ লাভার্থী সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। তিনি আরও বলেন, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সামাজিক ভাতা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজ্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী দিনেও এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।
সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের জেলা আধিকারিকগণ তাদের নিজ নিজ দপ্তরের চলমান প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, অর্জিত সাফল্য, সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিগণ জেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং সরকারি পরিষেবার মানোন্নয়ন বিষয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, টিটিএএডিসির এমডিসি ধীরেন্দ্র দেববর্মা ও রতিশ ত্রিপুরা, কৈলাসহর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন চপলা দেবরায়, কুমারঘাট পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন বিশ্বজিৎ দাস, চণ্ডিপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শম্পা দাস পাল, ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক মেঘা জৈন, পুলিশ সুপার ঋষভ, পরিবহণ দপ্তরের কমিশনার সুব্রত চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলাশাসক অর্ঘ্য সাহা, কুমারঘাট মহকুমার মহকুমা শাসক এন. এস. চাকমা, জেলার বিভিন্ন ব্লকের বিডিও এবং বিভিন্ন দপ্তরের জেলা আধিকারিকগণ।









