অনলাইন ডেস্ক, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গতকাল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সভাপতিত্বে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বৈঠকটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি, রাজ্য পুলিশের আইজি আইন শৃঙ্খলা, সমস্ত জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসকগণ এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচনী প্রচার পর্বে রাজ্যজুড়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সমস্ত রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং এর মাধ্যমে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ যাতে বজায় থাকে সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভোটের দিন ভোটে অংশগ্রহণকারী সমস্ত দলের প্রতিনিধিগণ যাতে তাদের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে সময়মতো উপস্থিত হতে পারেন তা নিশ্চিত করার জন্য শিবির ও পুলিশ সেক্টর অফিসারদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বৈঠকে নেওয়া হয়েছে।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার লক্ষ্যে রাজ্যে ৭৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় স্বশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগে, ভোটগ্রহণের সময় এবং ভোটগ্রহণ পরবর্তী সময় তাদের মোতায়েনের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে। সমস্ত জেলায় জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং পুলিশ সুপারদের উদ্যোগে নিয়মিত এরিয়া ডমিনেশন অভিযান এবং ফ্ল্যাগ মার্চ পরিচালনা করা হচ্ছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সমস্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কালেক্টর এবং পুলিশ সুপারকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে ভোটাররা যাতে কোনও ভয় বা ভীতি প্রদর্শন ছাড়াই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আস্থা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১৮৯, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১৬৩ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ১২৬-এর অধীনে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী বাধ্যতামূলক ৪৮ ঘণ্টার নীরবতা পর্ব সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে।
এই সময়ে কোনও ধরনের নির্বাচনী প্রচার বা প্রচারণা চালানো যাবে না। ভোটগ্রহণ এলাকার মধ্যে টেলিভিশন, রেডিও, কেবল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক কিংবা মুদ্রিত মাধ্যমে কোনও নির্বাচনী বিষয় প্রদর্শন, প্রকাশ বা সম্প্রচার করা যাবে না। টিভি চ্যানেল, রেডিও স্টেশন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সংবাদপত্র সহ সমস্ত সংবাদমাধ্যমকে ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনও বিষয় যেমন বিতর্ক, আলোচনা, মতামত বা জনমত সমীক্ষা সম্প্রচার বা প্রকাশ করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।কমিশন সমস্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে এই নির্দেশিকাগুলি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যে কোনও ধরনের নির্দেশিকা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লাউডস্পিকার শুধুমাত্র সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। লাউডস্পিকারের শব্দ যাতে শিশু, বিশেষ করে নবজাতক শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের অসুবিধার কারণ না হয় সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
মিশনের লাউডস্পিকার ব্যবহারের নির্দেশিকা যাতে কঠোরভাবে পালন করা হয়, তা নিশ্চিত করতে আইন-প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সমস্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিককে নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিশ্চিত ন্যূনতম সুবিধা, যেমন পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয় বৈঠকটি গ্রাম কমিটি নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত সমস্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পর্যবেক্ষকদের আইনানুগ ভূমিকা ও দায়িত্বের পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কার্যকর নজরদারি, অভিন্নতা, স্বচ্ছতা এবং নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশিকার যথাযথ পালন নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের রাজ্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তাঁদের নির্ধারিত এলাকায় নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং সেই বিষয়ে রিপোর্ট প্রদানের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।








