অনলাইন ডেস্ক, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয়, সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়া কিংবা সাধারণ মানুষের অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে আধিকারিকদের স্বপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। আজ সচিবালয়ে টাস্ক মনিটরিং সিস্টেমের বৈঠকে এই নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। বৈঠকের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব তথা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে টিএমএস পোর্টালের কার্যপ্রণালী এবং দপ্তর সম্পর্কিত সোশ্যাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া মনিটরিং ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। বিভিন্ন দপ্তর সম্পর্কিত সামাজিক ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সমন্বয় এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষের সঙ্গে নম্র ও সৌজন্যমূলক আচরণের মাধ্যমে তাদের সমস্যার কথা শুনে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা শাসকরা জেলার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করবেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে লাইসেন্সবিহীন স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। গোলবাজার এলাকায় অবৈধ পার্কিংয়ের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি এসপি ট্রাফিককে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ট্রমা সেন্টারগুলির সক্রিয়তা ও কার্যকারিতা বজায় রাখার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় ট্রমা সেন্টারগুলিকে সর্বদা প্রস্তুত ও কার্যকর রাখতে হবে। একইসঙ্গে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ এবং ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বেইলি ব্রিজগুলির রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেসব বেইলি ব্রিজের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলি দ্রুত মেরামত করে যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হাতির উপদ্রব কমাতে বন দপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রয়োজন হলে এই সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসের কার্যকারিতা ও বাস্তব প্রয়োগের বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনার উপর গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে স্মার্ট ক্লাসের পারফরম্যান্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যাতে কোনও খেলোয়াড়ের প্রতিভা, খেলায় অংশগ্রহণ কিংবা খেলোয়াড়জীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে দপ্তরগুলিকে আগাম উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার জটিলতা বা অপ্রয়োজনীয় বিলম্বের কারণে কোনও খেলোয়াড় যেন সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিশ্চিত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টিএমএস-এর মূল উদ্দেশ্যই হল প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলির দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বা অযথা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি দপ্তরকে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের মানুষের স্বার্থে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন। আজকের টিএমএস বৈঠকে রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলা শাসক ও জেলা পুলিশ আধিকারিকগণ ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিব, সচিব, অধিকর্তা এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।









