অনলাইন ডেস্ক, ১০ অক্টোবর, ২০২৬: কেবলমাত্র আইন প্রণয়নের মাধ্যমে পথ দুর্ঘটনা রোধ কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রয়াস, সচেতনতা বৃদ্ধি, নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবল হলেই তা সম্ভব। আজ এ ডি নগর পুলিশ গ্রাউন্ডে আরক্ষা ও পরিবহন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন সড়ক নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। সারা রাজ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে রোড সেফটি ফান্ডের মাধ্যমে আজ এই অনুষ্ঠানে ব্রেথ এনালাইজার, ট্রলি ব্যারিকেড, হেলমেট, রেইনকোট, রিফ্লেক্টিভ জ্যাকেট, রোড ডিভাইডার পোল ইত্যাদি প্রদান করা হয়েছে। এজন্য ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা।
অনুষ্ঠানে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতিকরণ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার মধ্যদিয়ে পথ দুর্ঘটনা হ্রাস করা সরকারের লক্ষ্য। কারণ পথ দুর্ঘটনায় যখন কোন ব্যক্তির মৃত্যু কিংবা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন তখন তার পরিবারও মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অপূরনীয় ক্ষতি পরিবারটিকে সারাজীবন বহন করে চলতে হয়। ভারতবর্ষ সহ ত্রিপুরা রাজ্যে গত এক দশক ধরে আরও বেশি করে নগরায়ন হচ্ছে। তারফলে ছোট বড় শহরগুলিতে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যাক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা।
সেই তুলনায় রাজ্যের রাস্তাঘাট ততটা চওড়া নয়। ফলে যানজট, পথদুর্ঘটনার মত ঘটনা বেড়েই চলছে। যদিও দেখা গেছে রাজ্যে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পথ দুর্ঘটনা ৯ শতাংশ এবং মারাত্মক দুর্ঘটনা ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে কোন সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য আন্তঃবিভাগীয় যোগাযোগ থাকা একান্ত প্রয়োজন। যেমন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যু হ্রাসে আরক্ষা দপ্তরের পাশাপাশি পরিবহন, স্বাস্থ্য, পূর্ত দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এইসব দপ্তরগুলির মধ্যে সময়ে সময়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাকে উন্নত করতে প্রযুক্তিকে আরও ব্যপকভাবে ব্যবহার করতে হবে। দুর্ঘটনা হয় এরকম জায়গাগুলিকে চিহ্নিত করে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করতে হবে। ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ জনগণ, গাড়ি চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন, পথ দুর্ঘটনার ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস নিতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে। মুখ্যমন্ত্রী ছেলে মেয়েদের ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত করতে অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দেন। স্কুটি বা বাইক চালানোর ক্ষেত্রে হেলমেট পড়া ও দ্রুত গতিতে গাড়ি বা বাইক চালানো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষনিকের আনন্দের জন্য নিজের এবং অন্যের জীবন সংশয়ে ফেলা কোনভাবে কাম্য নয়। রাতের বেলায় যততত্র গাড়ি পার্কিং বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরক্ষা দপ্তরকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন ইতিমধ্যে পুরনো মোটর স্টেন্ডে মাল্টিস্টোরিড গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তাছাড়া আগামী দিনে বটতলা, নেতাজী চৌমুহনীতে এরকম ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় কিনা তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা হচ্ছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন। তিনি আগরতলা পুর নিগম সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে শহরে গড়ে উঠা বিভিন্ন ফ্ল্যাট কিংবা শপিং মলে গাড়ি পার্কিং-এর জন্য যেন আবশ্যিক ব্যবস্থা রাখা হয় তা দেখার জন্য বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, পথ দুর্ঘটনা হ্রাসে পরিবহন দপ্তর আরক্ষা প্রশাসনকে নিয়ে কাজ করে চলছে। তিনি বলেন, দপ্তর থেকে আরক্ষা বাহিনীকে ১৬টি অ্যাম্বুলেন্স, প্রতিটি জেলার জন্য মর্ডান ইন্টারসেপ্টর ভ্যাহিকেল দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এখন আর পথ দুর্ঘটনাগ্রস্থদের সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় রাখা হচ্ছে না।
তদুপরি রাহবীর প্রকল্প চালুর মাধ্যমে তাদের আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পে ১১ জনকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম রাহত প্রকল্পে নথিভুক্ত হাসপাতালগুলিতে সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হিট এন্ড রান মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়। তিনি বলেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারে উদ্দেশ্য হল পথ দুর্ঘটনাকে একেবারে শূন্যতে নামিয়ে আনা। এই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। আজকের অনুষ্ঠানে প্রতীকি হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী এস পি ট্রাফিক কান্তা জাঙ্গীরের হাতে একটি ব্রেথ এনালাইজার তুলে দেন। আজ এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত ডি জি পি জি এস রাও। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, পরিবহন দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা সহ উভয় দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকগণ।








