১৪টি কাস্টমারি আইন কার্যকরের দাবিতে ৭ ডিসেম্বর গণ-অবস্থান, বনধের হুঁশিয়ারি

আগরতলা, ২ নভেম্বর : ত্রিপুরার বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রথাগত আইন বা কাস্টমারি ল’ বিধিবদ্ধ করার দাবিতে আগামী ৭ ডিসেম্বর গণ-অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ত্রিপুরা ট্রাইবেল কাস্টমারি ল’ কোঅর্ডিনেশন কমিটি। দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ১৪টি কাস্টমারি ল’ বিল দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে রাজ্য সরকার ও টিটিএএডিসি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলি পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পাশাপাশি ত্রিপুরা বনধের কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কমিটি।

রবিবার আগরতলা প্রেসক্লাবে বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের সমাজপতিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে কমিটির প্রতিনিধিরা জানান, জনজাতি সমাজের নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রীতিনীতি এবং প্রথাগত আইনগুলিকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি সেগুলির সাংবিধানিক ও আইনি স্বীকৃতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উত্থাপন করা হলেও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর টিটিএএডিসি-র অধিবেশনে ১৪টি কাস্টমারি ল’ বিল সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল। তবে পরিষদের অধিবেশনে অনুমোদন পাওয়ার পরও বিলগুলিকে এখনও সম্পূর্ণ আইনি মর্যাদা দিয়ে বিধিবদ্ধ করা হয়নি। এর ফলে বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব প্রথাগত আইনগুলির স্বীকৃতি ও বাস্তবে প্রয়োগের বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করেছে কমিটি।

এই দাবিগুলিকে সামনে রেখে আগামী ৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা থেকে আগরতলার সার্কিট হাউসের কাছে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তিন ঘণ্টাব্যাপী গণ-অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করেছে কমিটি। কর্মসূচিকে সফল করতে রাজ্যের বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষজনকে এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

কমিটির প্রতিনিধিরা জানান, প্রস্তাবিত গণ-অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকার এবং টিটিএএডিসি কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের দাবিগুলি আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হবে। এরপরও ১৪টি কাস্টমারি ল’ বিল বিধিবদ্ধ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দাবি পূরণে প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ না দেখা গেলে শেষ পর্যন্ত ত্রিপুরা বনধের মতো কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে কমিটি।

জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রথাগত আইনগুলিকে দ্রুত আইনি স্বীকৃতি প্রদান ও বিধিবদ্ধ করার দাবিতে এই আন্দোলন আগামী দিনে ত্রিপুরার সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব বিস্তার করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

Recent Posts