আগরতলা, ২ নভেম্বর : কুৎসিত অঙ্গভঙ্গিতে নেচে-গেয়ে গণতন্ত্র রক্ষা কিংবা দেশ থেকে অরাজকতা দূর করা যায় না। একই সঙ্গে আসন্ন নগর ভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস।
রবিবার কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বিজেপির শনিবারের পদযাত্রা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁর দাবি, রাজধানীতে বিজেপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রী, বিধায়ক ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশের বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গিতে নাচ এবং কংগ্রেস ভবনের সামনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক শালীনতা ও সংস্কৃতির পরিপন্থী।
যে কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’, সেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের আচরণই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, গণতন্ত্র রক্ষার নামে এই ধরনের কর্মসূচির উদ্দেশ্য কী? প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, নেতা-মন্ত্রীদের এ ধরনের কুৎসিত অঙ্গভঙ্গিতে নৃত্য প্রদর্শনের ঘটনা এর আগে রাজ্যে দেখা যায়নি।
কংগ্রেস মুখপাত্রের দাবি, দেশের একাধিক রাজ্যে বর্তমানে বিজেপির ডবল কিংবা ট্রিপল ইঞ্জিনের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। ত্রিপুরাতেও একইভাবে ডবল ইঞ্জিনের সরকার চলছে। এই পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও তার প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখার দায়িত্ব আসলে কার, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গিতে নাচানাচি করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। একইভাবে এ ধরনের আচরণের মাধ্যমে দেশের অরাজক পরিস্থিতিরও অবসান ঘটানো যায় না বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেস মুখপাত্র।
উল্লেখ্য, ইন্ডি জোটের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে শনিবার রাজধানী আগরতলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি পালন করে বিজেপি। ওই কর্মসূচিতে দলের মন্ত্রী, বিধায়ক ও কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। বিজেপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই রবিবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে আসন্ন নগর ভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন প্রবীর চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহকুমা শাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে রেখে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
শনিবার কমলপুরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় সিপিআই(এম) প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনারও কঠোর সমালোচনা করেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিকভাবে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিরোধী দলগুলিকে নানা বাধা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, অবাধ পরিবেশ এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মোহনপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, শনিবার ওই কার্যালয় কার্যত বিজেপি কর্মীদের ঘেরাওয়ের অধীনে ছিল। এর ফলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
খয়েরপুরে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় সভা নিয়েও অভিযোগ তোলে প্রদেশ কংগ্রেস। প্রবীর চক্রবর্তীর দাবি, ওই সভায় কংগ্রেস ও সিপিএম নেতৃবৃন্দকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের আগে সর্বদলীয় আলোচনায় বিরোধী দলগুলিকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেন, একদিকে শাসকপক্ষ গণতন্ত্রের মর্যাদা ও সুরক্ষার কথা বলছে, অথচ অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এই দুই ধরনের অবস্থানের মধ্যে অসংগতির বিষয়টি তুলে ধরে শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, আসন্ন পুর ও নগর নির্বাচনে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিরোধী দলের প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক হিংসা, হুমকি ও আতঙ্কের পরিবেশ রুখতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে কংগ্রেস।









