অনলাইন ডেস্ক, ২১ মে, ২০২৬: রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুষ্ঠু আইন শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে রাজ্য সরকার কোনও আপোষ করতে রাজি নয়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার রাজ্যের আরক্ষা বাহিনীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার দিয়েছে। আজ নরসিংগড়স্থিত কে.টি.ডি.এস, পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি মাঠে ৯১তম ও ৯২তম ব্যাচে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৭৬ জন পুলিশ কনস্টেবলদের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
তিনি বলেন, আরক্ষা বাহিনীকে আরও দক্ষ করে তুলতে নানা বাস্তবভিত্তিক ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে নিজেদের দক্ষ করে তোলায় উদ্যোগী হতে হবে। সরকারের লক্ষ্য দক্ষ, সেবাপরায়ণ, মানবিক এক শক্তিশালী আরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলা। ৪৭৬ জনের মধ্যে ৩১৮ জনই মহিলা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার এর আগেও আরক্ষা দপ্তরে ৯৭৫ জন কনস্টেবল পদে নিয়োগ করেছিল। আজ পাসিং আউট হওয়া কনস্টেবলদের ৪৭৬ জনের মধ্যে একটা বড় অংশই নারী, যা রাজ্যের গর্বের বিষয়।
নারীদের ক্ষমতায়নে রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার ফলেই আজ আরক্ষা বাহিনীতেও নারীরা যোগদানে বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। রাজ্যের নারীরা আরক্ষা বাহিনীতে যোগ দিয়ে সততা ও সাহসিকতার মধ্যে কাজ করে তাদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। রাজ্য সরকার আরক্ষা বাহিনীতে আরও ১,১৩৪ জন নিয়োগ করবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার সূচকে ত্রিপুরা নীচের দিক থেকে তৃতীয় নম্বরে রয়েছে। আরও তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার সূচকে রাজ্যকে এক নম্বরে নিয়ে যেতে হবে। ফৌজদারি সম্পর্কিত নতুন আইনগুলি সম্পর্কে ধারণা বাড়াতে সরকার নানা কর্মসূচি নিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুনদের মনে রাখতে হবে পুলিশের পোশাক শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়। এই পোশাক ধারণকারীকে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, সততা ও সাহসিকতার পরিচয় বহন করে সমাজে আস্থা অর্জন করে নিতে হবে। নিষ্ঠা, সাহস, সততা ও মানবিক প্রয়াসে নিজেকে দক্ষ পুলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সমাজের সেবায় নিষ্ঠা থাকলে যেমন সম্মান অর্জন করা যায়, তেমনি নিজেরও আত্মতৃপ্তি আসে। আরক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি প্রত্যেকের সহযোগিতায় ত্রিপুরাকে একটা শান্তির পীঠস্থান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
শপথ গ্রহণ ও জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত কনস্টেবলদের শপথ বাক্য পাঠ করান কে.টি.ডি.এস. পুলিশ ট্রেনিং একাডেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে আরক্ষা বাহিনীর জওয়ানগণ প্যারেডের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। পুলিশ ট্রেনিং মাঠে আরক্ষা বাহিনীর জওয়ানগণ মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নানা শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন করে। মুখ্যমন্ত্রী বোতাম টিপে রাজ্য আরক্ষা বাহিনীর ‘ট্র্যাক মি’ পরিষেবার উদ্বোধন করেন। এছাড়া ৯১তম ও ৯২তম ব্যাচের কনস্টেবল নিয়োগ সম্পর্কিত একটি স্মরণিকার আবরণ উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃতী প্রার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠান রাজ্যের নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মোট ৪৭৬ জন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কনস্টেবলের মধ্যে ৩১৮ জনই মহিলা। রাজ্য সরকার অভ্যন্তরীণ আইন শৃঙ্খলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা রাখতেও বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ। অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণও উপস্থিত ছিলেন।









