অনলাইন, ১৯ মে, ২০২৬: পশ্চিম জেলার ইট ভাট্টাগুলিতে শিশু শ্রমিক নিয়োগের বিরুদ্ধে সচেতন করার লক্ষ্যে আজ শ্রম ভবনের কনফারেন্স হলে দু’দিনব্যাপী পশ্চিম জেলাভিত্তিক আলোচনাচক্র শুরু হয়েছে। চলবে ২০ মে পর্যন্ত। শ্রম দপ্তর এই আলোচনাচক্রের আয়োজন করে। এই আলোচনাচক্রে শ্রম দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক ছাড়াও ইট ভাটার মালিক, নিয়োগকর্তা, ম্যানেজার প্রমুখ অংশ নেন। উল্লেখ্য, সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সের শিশু শ্রমিককে ইট ভাট্টায় নিয়োগ করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। আলোচনার সূচনা করে শ্রম দপ্তরের যুগ্ম শ্রম কমিশনার বিনয় ভূষণ দাস বলেন, ইট ভাট্টায় যাতে কোনও শিশু শ্রমিক না থাকে তা মালিক পক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে কোনও প্রতিষ্ঠানে যাতে শিশু শ্রমিক না থাকে। আগে সতর্ক করা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হতো। এখন সরাসরি মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে। প্রয়োজনবোধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। শিশু আইন অনুযায়ী যা যা বিধান আছে সেসব কার্যকর করা হবে। আগামীকাল বিকেল ৩টায় এই হলে পশ্চিম জেলার ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে সচেতন করা হবে। তিনি বলেন, পরিযায়ী শ্রমিক এলে তার তালিকা সরকারকে দিতে হবে। ফেরার সময় সব পাওনা মেটাতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের পাকা ঘরে থাকা, শৌচালয়, পানীয়জল, মহিলাদের জন্য ক্রেস, শিশুদের জন্য বিশ্রাম কক্ষ, শিশু খাদ্য, দুধ, প্রাথমিক চিকিৎসা, ৮.৩৩ শতাংশ বোনাস (মোট মজুরির উপর) ও শ্রমিকদের যথা সময়ে মজুরি প্রদান ইত্যাদি বিষয়গুলি মালিক পক্ষকে যথাযথভাবে করতে হবে।
রাজ্য সরকার চায় সামগ্রিক উন্নয়ন। যাতে রাজ্য সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে। আলোচনায় অংশ নিয়ে জেলা শ্রম আধিকারিক পার্থ ভট্টাচার্য ‘ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য চাইন্ড এডুলেসেন্ট লেবার প্রোহিবিশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যাক্ট ১৯৮৬’ নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, শিশু শ্রমিকের বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ থাকলে সে ব্যক্তি ১০৯৮ টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে জানাতে পারেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন শ্রম আধিকারিক পাপন সেন, ফ্যাক্টরি অ্যান্ড বয়লার্স কার্যালয়ের পরিদর্শক নীতাই সেন এবং বিভিন্ন ইট ভাট্টার মালিক ও নিয়োগকর্তাগণ। সভায় শিশু শ্রমিক ও শ্রম দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন শ্রম পরিদর্শক দীপঙ্কর পাল।









