গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে আধিকারিক ও কর্মচারিদের তৃণমূলস্তরে গিয়ে কাজ করতে প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রীর আহ্বান

প্রগতি ত্রিপুরা, ২১ জুন, ২০২৬: রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে প্রাণীপালনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মচারিদের তৃণমূলস্তরে গিয়ে কাজ করতে হবে। প্রাণী প্রতিপালনের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি রূপায়ণের কাজ চলছে। একে আরও তেজী করতে হবে। প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস আজ গোর্খাবস্তিস্থিত প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের কনফারেন্স হলে দপ্তরের রাজ্যভিত্তিক এক পর্যালোচনা সভায় এই আহ্বান জানান। সভায় প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার, অধিকর্তা ডা. এন কে চঞ্চল, অতিরিক্ত অধিকর্তা বি কে দাস, টিটিএএডিসি’র প্রিন্সিপাল ভেটেরিনারী অফিসার রত্নেশ্বর দেবনাথ ছাড়াও দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক, সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের আধিকারিক ও ফার্ম ইনচার্জগণ উপস্থিত ছিলেন।

পর্যালোচনা সভায় প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস দপ্তরের গত সভার অ্যাকশন প্ল্যান ও আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি দুধ, ডিম ও মাংসের উৎপাদন আরও বাড়ানোর জন্য প্রাণীপালকদের আরও দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি আগামী ৬ মাসের মধ্যে রাজ্যের ৬টি স্থানে ৬টি গোশালা চালু করার জন্য তিনি নির্দেশ দেন। পর্যালোচনা সভায় স্বউদ্যোগীদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী প্রাণীসম্পদ বিকাশ যোজনা, প্রাণীপালক সম্মান নিধি, কেসিসি প্রভৃতি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেবার আহ্বান জানান। আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার প্রাণীপালনে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পর্যালোচনা সভায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশানের মাধ্যমে আলোচনার সূচনা করেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা ডা. এন কে চঞ্চল। তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজ্যে ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৯০ টন দুধ, ৫৯ হাজার ২০৪ টন মাংস এবং ৩৫ কোটি ২৩ লক্ষ ডিম উৎপাদন হয়েছে। রাজ্যের জন্য ৫০টি মিনি মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিট কেনা হয়েছে। তিনি বলেন, উদয়পুর, সাক্রম, কুমারঘাট ও ধর্মনগরে ৪টি ভেটেরিনারি মেডিসিন স্টোরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভেটেরিনারি ডিসপেনসারির ৭টি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কাঞ্চনপুরে একটি ভেটেরিনারি হাসপাতাল স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রাণী হাসপাতালে ৮ লক্ষ ১১ হাজার ৫০টি প্রাণীর চিকিৎসা করা হয়েছে। ৫৫ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭০৬টি পাখীর চিকিৎসা করা হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন পশু পাখির টিকাকরণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গোধন প্রকল্পে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৯ হাজার ৬৬৮টি গাভীর কৃত্রিম প্রজননের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রাণীসম্পদ বিকাশ যোজনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৯৫১টি হাঁস, ৫৩০টি মোরগ, ১২৪৪টি শূকর এবং ১২৫৬টি ছাগলের প্রকল্প বাস্তবায়ণ করা হয়েছে। প্রাণীপালক সম্মান নিধিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বহু প্রাণীপালককে পুরস্কৃত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রাণীপালন সম্মান নিধি যোজনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭২ জন সুবিধাভোগীকে ২২.৪৫ লক্ষ টাকা সহায়তা করা হয়েছে। প্রাণী কল্যাণ প্রকল্পে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৩৪ টি বিদ্যালয়ে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। ৩২১টি শিবিরে এন্টি রেবিস টিকাকরণ করা হয়েছে। কেসিসি প্রকল্পে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাণীপালনে ঋণের মাধ্যমে সহায়তার জন্য ১৫৯৪টি দরখাস্ত বিভিন্ন ব্যাঙ্কে স্পনসর করা হয়েছে। মঞ্জুরি পাওয়া গেছে ৭৫০টি।

এনএলএম-লাইভস্টক ইনস্যুরেন্স প্রকল্পে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৯৬২টি দুগ্ধবতী গাভী, ভেড়া, ছাগল, শুকর ও বলদের বীমা করা হয়েছে। এছাড়া অধিকর্তা, দপ্তরের বিভিন্ন আধিকারিক ও কর্মচারিদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলোকপাত করেন। এছাড়া তিনি বেনিফিসিয়ারিজ ওরিয়েন্টেড স্কিমের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পর্যালোচনা সভায় দপ্তরের আধিকারিক সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকগণ নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন। পর্যালোচনা সভা শুরুর আগে প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী অধিকর্তার কার্যালয়ে একটি নতুন সম্প্রসারিত ভবনের উদ্বোধন করেন।

Recent Posts