প্রগতি ত্রিপুরা, ২১ জুন, ২০২৬: স্বচ্ছতা রক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। তবেই গড়ে উঠবে একটি সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ যা সমাজের সার্বিক উন্নয়নের ভিত্তি হয়ে উঠবে। অনেক জায়গাতেই দেখা যায় নালাগুলিতে আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। আবর্জনায় অপরিচ্ছন্ন নালাগুলি শহরে জল জমে থাকার অন্যতম কারণ। নালাগুলি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি জনসাধারণকেও সচেতন ও দায়িত্ব নিতে হবে। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন-২০২৬ বিষয়ে রাজ্যভিত্তিক কর্মশালার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
আগরতলা পুরনিগম, রাজ্যের ২০টি নগর পঞ্চায়েত ও পুর পরিষদের সদস্য-সদস্যাগণ, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, বিভিন্ন ক্লাব ও সমাজসেবী সংগঠন এর প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। নগর উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় মুখ্যমন্ত্রী রিমোটের বোতাম টিপে ‘স্বচ্ছতা’ অ্যাপ-র সূচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনের পক্ষে সর্বত্র স্বচ্ছ পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব নয়। সাধারণ জনগণকেও এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বচ্ছ দেশ গড়ার বার্তা নিয়ে স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছিলেন। এই অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেকের উচিত যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা।
এবিষয়ে প্রত্যেকের আরও সচেতন হতে হবে। সরকার বা প্রশাসন ও জনসাধারণের মধ্যে। জনপ্রতিনিধিগণ হলেন একটা সেতু। তাই স্বচ্ছ ত্রিপুরা গড়ে তোলার কাজে জনপ্রতিনিধিদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং জনগণকে এবিষয়ে অবগত করতে হবে। আগরতলা পুরনিগম সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও নগর এলাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক এবং গতিশীল করতে অত্যাধুনিক। যন্ত্রপাতি সহ বিশেষায়িত যানবাহণ যুক্ত করা হয়েছে। বৃষ্টির জল যাতে দ্রুত নিষ্কাশিত হয় সেই লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন শহর ও নগর সহ সর্বত্র স্বচ্ছ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সবার প্রতি আহ্বান জানান। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ জনগণকে অবগত করার জন্য কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৬ সম্পর্কিত একটি লিফলেটেরও আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, মানুষকে সাথে নিয়ে স্বচ্ছ ত্রিপুরা গড়ার কাজকে একটি আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। পুরনিগম এলাকায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছ। নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৬ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত। স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপর একটি স্বল্প দৈঘ্যের তথ্যচিত্রও অনুষ্ঠানে দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন নগর উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা ড. তমাল মজুমদার।









