অনলাইন ডেস্ক, ৪ জুলাই, ২০২৬: সুস্থ সমাজ ও রাষ্ট্রের ভীত গড়তে চিকিৎসকদের গুরুত্ব অপরিসীম। ডা. বিধান চন্দ্র রায়ের দক্ষতা, সততা, নৈতিকতা, জীবনশৈলীর আদর্শকে পাথেয় করেই চিকিৎসকদের সমাজের জন্য কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করলেই সমাজে সুনাম অর্জন করা যায়। আজ আগরতলা প্রজ্ঞাভবনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় চিকিৎসক দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও প্রধান অতিথির ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার রাজ্যে কর্মরত চিকিৎসকদের সবধরণের সুযোগ সুবিধা প্রদানে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, রাজ্যের কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সার্কুলার অনেক বছর আগে থেকেই চালু ছিল। কিন্তু তা কার্যকর করা হয়নি। সরকার জনগণের স্বার্থে চিকিৎসা পরিষেবা সহ দপ্তরের সমস্ত কাজের একটা স্বচ্ছতা নিয়ে আসতে চায়।
জিবিপি হাসপাতাল ও আগরতলা গভর্ণমেন্ট মেডিকেল কলেজের কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সার্কুলার চিকিৎসকদের অ্যাসোসিয়েশনের সাথে আলোচনা ও তাদের মতামত নিয়েই তা ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে সময় ও চিকিৎসা ব্যয় কমাতে আরও বেশি করে টেলি কনসালটেন্সির সহায়তা নিতে হবে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং স্বল্প ব্যয়ে জনগণকে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা। বর্তমানে রাজ্যে রেফারেল রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সরকার শুধুমাত্র রাজধানী কেন্দ্রীক নয়, রাজ্যের জেলা, মহকুমান্তরেও উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। আগামীদিনে রাজ্যে লিভার ও হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় ১০০ শতাংশ সফলতা এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান চন্দ্র রায়ের জীবন দর্শন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ডা বিধান চন্দ্র রায় ছিলেন একজন দক্ষ চিকিৎসক ও প্রশাসক। তাই তিনি আজও আমাদের মধ্যে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি বলেন, রাজ্যে সমস্ত অংশের মানুষের সহযোগিতায় গড়ে তোলা যাবে এক নতুন ত্রিপুরা ও সুস্থ ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে স্বাস্থ্য দপ্তর নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তরের অধিকর্তা ডা. অঞ্জন দাস, আগরতলা গভর্ণমেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. তপন মজুমদার, টিএমসি এবং ড. বি আর আম্বেদকর টিচিং হাসপাতালের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অরিন্দম দত্ত এবং আগরতলা গভর্ণমেন্ট ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শালু রায়। অনুষ্ঠানে ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়াও ৭ জন চিকিৎসককে চিকিৎসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিগণ ডা. বিধান চন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।



