কৃষকরাই আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি: কৃষিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক,৪ আগস্ট, ২০২৬: উন্নতমানের বীজ এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধান চাষ কৃষকদের অধিক ফলন ও বেশি আয় নিশ্চিত করতে পারে। কৃষকরাই আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাই তাদের পরিশ্রমকে সম্মান জানানো এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আজ কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মোহনপুর কৃষি তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়ের উদ্যোগে মোহনপুর আরডি ব্লকের অন্তর্গত গজারিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে আমন ধান চারা রোপণ কর্মসূচির প্রধান অতিথি কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ একথা বলেন। তিনি বলেন, মাটির গন্ধ, কাদা মাখা পা আর কৃষকের মুখের অকৃত্রিম হাসি আমাদের গ্রামীণ জীবনের প্রাণ। জন্মলগ্ন থেকেই আমরা কৃষির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। গাছপালা আমাদের অক্সিজেন দিয়ে জীবন ধারণে সহায়তা করে। তাই কৃষি ও পরিবেশ উভয়ের সুরক্ষা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের সব ধরণের সহায়তা প্রদানের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। রাজ্য সরকারও কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এমআইসিএমপি প্রকল্পের আওতায় এসআইআর পদ্ধতিতে ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করলে রাজ্য সরকার প্রতি কানি জমির জন্য ১,২৪৪ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, মোহনপুর কৃষি মহকুমায় বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ২০০ কানি জমিতে ৩,৫০০ জন কৃষক এসআইআর পদ্ধতিতে ধান চাষ করছেন, যা কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

তিনি কৃষকদের কৃষি নিবন্ধন সম্পন্ন করার পাশাপাশি কৃষি বিজ্ঞানী ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, খরচ কমবে এবং কৃষকদের আয় আরও বৃদ্ধি পাবে। জমি খালি না রাখার পরামর্শ দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, জমি অনুযায়ী ফসলের চাষ করতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান রাকেশ দেব, ভাইস চেয়ারম্যান সঞ্জীব কুমার দাস, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সদস্য জয়লাল দাস, কৃষি দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা হিরেন্দ্র দেববর্মা, উপ অধিকর্তা সঞ্জীব দেববর্মা, মোহনপুরের কৃষি তত্ত্বাবধায়ক সুমিত্র দে, সমাজসেবী কার্তিক আচার্য প্রমুখ।