জার্মানিতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা করে পথে নামলেন জেন-জি প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা। শনিবার (৩০ অক্টোবর) দেশের বিভিন্ন বড় শহরে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে শামিল হন। তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে এই বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মুখোশ পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি লুটপাটেও জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্টে অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।
ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখনও উত্তেজনা ও অশান্তি অব্যাহত রয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে একাধিক দোকানের কাচের জানালা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এমনকি জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের লক্ষ্য করেও পেট্রলবোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত থাকলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
জার্মানির রাজধানী বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখ-সহ মোট ৩৪টি শহরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘জেন জি রেগেল্ট’ নামে একটি সংগঠন। জার্মান ভাষায় যার অর্থ ‘জেন-জি দায়িত্ব নিচ্ছে’।
আয়োজকদের বক্তব্য, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতেই এই আন্দোলন। উল্লেখ্য, চলতি বছর ইউরোপের একাধিক দেশে জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। জার্মানির এই আন্দোলনকেও সেই প্রতিবাদ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। অন্যদিকে ফ্রান্সে বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি একপর্যায়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গড়ায়। জার্মানির আন্দোলনকারীরা মূলত ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে তরুণ প্রজন্মের ওপর ক্রমবর্ধমান আর্থিক ও সামাজিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরতে চাইছেন।
মিউনিখে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৮ বছর বয়সী স্টিভ। সেখানে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তরুণদের উদ্বেগ ও সমস্যার বিষয়ে সরকার কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ করছে না। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাজেট কমিয়ে তাঁদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে।
বর্তমানে জার্মানি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফেরাতে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া ‘বেবি বুমার’ প্রজন্মের অবসর গ্রহণ এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে দেশের পেনশন ব্যবস্থা ও সরকারি পরিষেবার ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
তবে এই আন্দোলনের প্রকৃত নেতৃত্ব এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। জার্মানির স্কুল পড়ুয়াদের প্রধান সংগঠন ‘বিএসকে’ ইতিমধ্যেই এই আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। আগামী ২০ নভেম্বর তারা পৃথকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।









