পুর-নগর ভোটের প্রস্তুতিতে এনডিএ, আসন সমঝোতা নিয়ে সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আগরতলা, ২ নভেম্বর : আসন্ন ২১টি পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনে বিজেপি, তিপ্রা মথা এবং আইপিএফটি এনডিএ জোটের হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবে। পুর ও নগর নির্বাচনে জোটের আসন বণ্টন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সমীকরণ স্থির হয়নি। কোন দল কতগুলি আসনে প্রার্থী দেবে, সে বিষয়ে সোমবার রাতেই শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী রতনলাল নাথ। রবিবার রাজধানীর সরকারি অতিথিশালায় বিজেপি ও তিপ্রা মথার শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা জানান। এদিকে, তিপ্রা মথার সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা জানান, জনজাতি সংরক্ষিত আসনগুলির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সাধারণ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দাবি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আসন ভাগাভাগি নিয়ে দুই শরিক দলের আলোচনায় এখন সোমবারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে।

আসন্ন নগর নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এনডিএ জোটের শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে রবিবার সকালে রাজধানীর সরকারি অতিথিশালায় বৈঠকে বসেন বিজেপি ও তিপ্রা মথার নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে আইপিএফটির কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। তবে বৈঠক শেষে জানানো হয়, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের মতো নগর নির্বাচনেও বিজেপি, তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি এনডিএ জোটের হয়ে একসঙ্গে লড়াই করবে।

রবিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেন মন্ত্রী রতনলাল নাথ এবং দলের সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা। অন্যদিকে, তিপ্রা মথার হয়ে আলোচনায় অংশ নেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা, দলের সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা, এমডিসি পূর্ণচন্দ্র জমাতিয়া এবং দলের নেতা প্রশান্ত সিনহা। দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে আসন বণ্টন ও নির্বাচনী সমঝোতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। সেগুলি নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরে আলোচনা হবে। এরপর সোমবার রাতে দুই দলের মধ্যে ফের বৈঠকে আসন সমঝোতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রতনলাল নাথ বলেন, নগর নির্বাচনে এনডিএ জোটের হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সোমবার রাতের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, রবিবারের আলোচনাকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন তিপ্রা মথার সাধারণ সম্পাদক তথা প্রতিমন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা। তাঁর বক্তব্য, আসন্ন পুর ও নগর নির্বাচনে এনডিএ-র শরিক হিসেবে দুই দল যৌথভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। দলের তরফে সমস্ত জনজাতি সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি সাধারণ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবগুলির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে ফের আলোচনার মাধ্যমে আসন সমঝোতার চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের ২১টি পুর ও নগর সংস্থার মোট ৩৪৫টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। আসনগুলির মধ্যে ৯টি তপশিলি জনজাতি এবং ৮০টি তপশিলি জাতির প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৫৬টি আসন থাকছে অসংরক্ষিত। পাশাপাশি, মহিলা প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মোট ৩৪৫টি আসনের মধ্যে ১৬২টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই নির্বাচনী পরিসংখ্যানকে ঘিরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আসন বণ্টন ও প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, আগরতলা পুর নিগমের পাঁচটি জনজাতি সংরক্ষিত আসন-সহ রাজ্যের মোট ৯টি জনজাতি সংরক্ষিত আসন এবং আরও কয়েকটি সাধারণ আসন মিলিয়ে প্রায় ৬০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইতে পারে তিপ্রা মথা। যদিও আসনসংখ্যা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সোমবারের বৈঠকে এই দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অন্যদিকে, আসন্ন পুর ও নগর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী শিবিরেও জোটবদ্ধভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। কংগ্রেস, সিপিআই(এম)-সহ অন্যান্য বিরোধী দল ইন্ডি জোটের ব্যানারে নির্বাচনী ময়দানে নামার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে এনডিএ-র আসন সমঝোতা এবং বিরোধী শিবিরের নির্বাচনী রণকৌশল—দুইয়ের ওপরই নির্ভর করছে আগামী পুর ও নগর নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ।

Recent Posts

৪ নভেম্বর থেকে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের ODI সিরিজ়ে মাঠে নামবে ভারতীয় দল। তার আগে সোমবার ইডেন পার্কে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখলেন না অধিনায়ক শুবমান গিল। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করার পাশাপাশি ফিল্ডিং প্র্যাকটিসও সারলেন তিনি। বিদেশের মাটিতে ব্যাট হাতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে যে মরিয়া গিল, তাঁর প্রস্তুতিতেই মিলল সেই ইঙ্গিত। অন্য দিকে, আগের দিন আকিব নবির বলে নেটে সমস্যায় পড়লেও এ দিন অনুশীলনে দেখা গেল না বিরাট কোহলিকে। শুধু কোহলি নন, রোহিত শর্মা ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ও ইনডোরে অনুশীলন করেন। ফলে দলের বাকি তারকাদের থেকে আলাদা করে নজর কাড়ল গিলের দীর্ঘ অনুশীলন। কেন এতটা সময় ধরে প্রস্তুতি সারলেন ভারত অধিনায়ক? এবার কি বিশেষ কোনও পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামতে চলেছেন তিনি?