অনলাইন ডেস্ক, ৩ নভেম্বর, ২০২৫ : রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু উত্তরাখণ্ড রাজ্য গঠনের রজত জয়ন্তী উপলক্ষ্যে আজ (৩ নভেম্বর, ২০২৫) উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে, উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় ভাষণ দিলেন।
অনুষ্ঠানে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল বিধানসভা। বাবাসাহেব আম্বেদকর বলেছিলেন, সংসদীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সংবিধান প্রণেতারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন নিরবচ্ছিন্ন দায়বদ্ধতার উপর। জনতার প্রতি নিরবচ্ছিন্ন দায়বদ্ধতা সংসদীয় ব্যবস্থার শক্তি এবং চ্যালেঞ্জ দুটিই।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিধায়করা সাধারণ মানুষ এবং সরকারের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র। সংসদীয় ক্ষেত্রের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তৃণমূল স্তরে তাদের সেবা করার এই সুযোগ পাওয়া খুব বড় ব্যাপার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি বিধায়করা সক্রিয়ভাবে মানুষের সমস্যা মেটাতে এবং তাদের কল্যাণের কাজে যুক্ত থাকেন তাহলে সাধারণ মানুষ এবং তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিশ্বাসের বন্ধন অটুট হয়।
রাষ্ট্রপতি উত্তরাখণ্ড বিধানসভার সদস্যদের আবেদন জানান, পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে কাজ করার জন্য। তিনি বলেন, এই ধরনের কাজ রাজনীতির ঊর্ধ্বে। তিনি বিশেষ সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে সমাজের বঞ্চিত শ্রেণীর কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য। তিনি বলেন, তরুণতর প্রজন্মকে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার উপরেও তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে আমাদের সংবিধান প্রণেতারা সকল নাগরিকের জন্য অভিন্ন নাগরিক বিধির সংস্থান রেখেছিল। সংবিধানের নির্দেশ মেনে অভিন্ন নাগরিক বিধি রূপায়ণের জন্য উত্তরাখণ্ড বিধানসভার সদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি। উত্তরাখণ্ড লোকায়ুক্ত বিল, উত্তরাখণ্ড জমিনদারি অ্যাবলিশন অ্যান্ড ল্যান্ড রিফর্মস বিল এবং অ্যান্টি কপি বিল সহ ৫৫০-এর বেশি বিল পাশ করার জন্য সন্তোষপ্রকাশ করেন তিনি। স্বচ্ছতা, আদর্শ এবং সামাজিক ন্যায়ের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে এইসব বিল পাশ করানোর জন্য তিনি বিধায়কদের প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, উত্তরাখণ্ড অনুপম প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সৌন্দর্যে ভরপুর। রাজ্যকে প্রকৃতির এই উপহার সংরক্ষণের পাশাপাশি উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। গত ২৫ বছরে উত্তরাখণ্ডের মানুষ চোখে পড়ার মতো উন্নয়নের মাইলফলক অর্জন করায় তিনি সন্তোষপ্রকাশ করেন। পরিবেশ, শক্তি, পর্যটন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে রাজ্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে। এছড়াও অগ্রগতি ঘটেছে ডিজিটাল এবং বাস্তবিক যোগাযোগে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে। ফলে, সার্বিক উন্নয়ন প্রয়াসের ফলস্বরূপ উত্তরাখণ্ড মানব উন্নয়ন সূচকের বিভিন্ন মাত্রায় উন্নতি করেছে। ‘দেশ প্রথম’ এই মনোভাব নিয়ে উত্তরাখণ্ড বিধানসভার সদস্যরা রাজ্যের পাশাপাশি দেশকেও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।









