রাজ্যের চাহিদার মোট ফুলের ৪০ শতাংশ এখানেই উৎপাদিত হয়: পর্যটনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬: কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলি হল রাজ্যের অর্থনীতির মূলভিত্তি। এরমধ্যে রয়েছে ধান, সবজি, ফুল ও ফল চাষ, মৎস্যচাষ, প্রাণীপালন, বনায়ন প্রভৃতি। আমাদের রাজ্যে ফুলের যে চাহিদা রয়েছে তার ৪০ শতাংশ এখানে উৎপাদন হয় এবং অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ ফুল বহিঃরাজ্য থেকে আনতে হয়। রাজ্যে বিভিন্ন ফুলের চাষ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রামীণ এলাকার কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উদ্যানপালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরকে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করতে হবে।

গতকাল রবীন্দ্রকাননে আয়োজিত চারদিনব্যাপী চল্লিশতম বার্ষিক পুষ্প ও বাহারি পাতার প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরনীর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী একথা বলেন। ত্রিপুরা উদ্যানপালন সমিতির উদ্যোগে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই প্রদর্শনীতে ১৯৬ জন কৃষক মোট ৭২৩টি পুষ্প ও বাহারিপাতার প্রদর্শন করেন। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ভারতবর্ষের অর্থনীতি মূলতঃ কৃষিনির্ভর।

কৃষকরা হলেন অন্নদাতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রয়াস নিয়েছে। তিনি বলেন, একটা সময় রাজ্যে বাণিজ্যিক ভাবে ফুলচাষ প্রায় হতো না বললেই চলে। ব্যাঙ্গালুরু, পশ্চিমবঙ্গ, গুয়াহাটি প্রভৃতি রাজ্য থেকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে ফুল আমাদের রাজ্যে আনতে হতো। বর্তমানে পরিবহন ব্যয় কম হওয়ায় রেলের মাধ্যমে ফুল সহজেই আনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় হলে রাজ্যের অর্থনীতির ভীত মজবুত হবে। বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে জিএসডিপি-তে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষকদের ধানচাষ ও সবজি চাষের পাশাপাশি মৎস্যচাষ, প্রাণীপালন, বনায়ন ও নানারকম ফুল চাষেও এগিয়ে আসতে হবে। তবেই রাজ্যের জিএসডিপি আরও শক্তিশালী হবে। রাজ্যের মানুষের মাথাপিছু গড় আয়কে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ফুল ও পাতাবাহার চাষে রাজ্য অনেক এগিয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্প উদ্যান প্রকল্পে, মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অব হটি কালচার প্রভৃতি প্রকল্পে কৃষক ও ফুল চাষিদের আর্থিক ভাবে সহায়তা করার জন্য দপ্তর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে পৃথিবীর চতুর্থ অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতবর্ষ আত্মপ্রকাশ করেছে। এই দেশকে আমাদের আরও এগিয়ে নিতে হবে।

বিশেষ অতিথির ভাষণে রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, ফুলচাষ শুধু আগরতলায় নয় রাজ্যের অন্যান্য জেলায় ও মহকুমায় এর চাষ সম্প্রসারণে দপ্তরকে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, রাজ্যের ক্যুইন আনারস জিআই ট্যাগ পেয়েছে। বহিঃরাজ্যে রাজ্য সরকার আনারস বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ১৫ হাজার সুগন্ধী লেবু বহিঃরাজ্যে পাঠানো হয়েছে। শুধু আনারস বা লেবু নয় অন্যান্য ফসল কৃষকরা যাতে সহায়কমূল্যে বিক্রি করতে পারেন তারজন্য রাজ্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদ্যান পালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের অধিকর্তা ড. ফনীভূষন জমাতিয়া। উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিজ্ঞানী ড. রাজীব ঘোষ, স্টেট কনসালটেন্ট অব হটিকালচার গোপাল মল্ল, উদ্যান পালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের উপঅধিকর্তা সুজিত দাস। অনুষ্ঠানে পুষ্প ও পাতাবাহার প্রদর্শনীর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারস্বরূপ অতিথিগণ তাদের হাতে ট্রফি ও শংসাপত্র তুলে দেন। এছাড়া বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় সেরা ৬ জন বিজয়ীকে এবং আলপনা প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীকে পুরস্কৃত করা হয়।