কৈলাসহরে পিসিকালচার নলেজ সেপ্টারের উদ্বোধন, ১৭ মিঞার হাওরে একটি ১০০ একর জমির উপর ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকুয়া পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছেঃ মৎস্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ০৫ আগস্ট, ২০২৫: আজ কৈলাসহরে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবনির্মিত পিসিকালচার নলেজ সেন্টার-এর উদ্বোধন করেন মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। সেন্টারটি উদ্বোধন করে মৎস্য মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, এই কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে মৎস্যচাষিদের কল্যাণের জন্য। এই কেন্দ্র মাছ চাষিদের দক্ষতা ও আয় বাড়াতে ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদনে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে জলাশয়ের অভাব থাকায় প্রয়োজনীয় মাছ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

জলাশয়গুলিকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানো হবে। রাজ্যে বহু পরিত্যক্ত জলাশয় পড়ে রয়েছে। সেগুলি চিহ্নিত করে মাছ চাষের আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। এই অর্থবছরে অতিরিক্ত ৫০-৬০ হেক্টর জমি মাছ চাষযোগ্য জলাশয়ে রূপান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তিনি বলেন, মাছ চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা, স্বনির্ভর হওয়ার সহজ পথ। কম বিনিয়োগে অনেক বেশি আয় করা সম্ভব।

এসটি, এসসি ও মহিলাদের জন্য হ্যাচারি স্থাপনের জন্য ৬০ শতাংশ ভর্তুকির সুযোগ রয়েছে। হ্যাচারি স্থাপনের জন্য যেখানে ২৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন সেখানে ১৫ লক্ষ টাকা সরকারিভাবে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কৈলাসহর মহকুমার অন্তর্গত ১৭ মিঞার হাওরে একটি ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকুয়া পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০০ একর জমির উপরেই প্রকল্প বাস্তবায়ণে ইতিমধ্যেই ৪৩ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মৎস্য সহায়তা যোজনার আওতায় রাজ্যের মৎস্য চাষিদের বছরে ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ৩ হাজার সুবিধাভোগীকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার বাস্তব ভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। শুধু প্রচারে নয়, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে রাজ্য সরকার মনোযোগী। রাজ্যে দিন দিন মাছের চাহিদা বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে মাছের উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ছে। সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে যাতে মাছ চাষিরা উপকৃত হন। আজকের এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৈলাসহর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন চপলা দেবরায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৎস্য দপ্তরের উপ অধিকর্তা তারেন্দ্র দেববর্মা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উনকোটি জিলা পরিষদের সদস্য শ্যামল দাস, বিমল ধর, চন্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সম্পা দাস পাল, মৎস্য দপ্তরের উপ অধিকর্তা সুজিত সরকার, বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রিতম ঘোষ প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মৎস্য মন্ত্রী সুধাংশু দাস ও উপস্থিত অতিথিগণ পিসিকালচার নলেজ সেন্টার পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, নবনির্মিত পিসিকালচার নলেজ সেন্টার নির্মাণে ৪৯ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।