অনলাইন ডেস্ক, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৫: আগর হল ত্রিপুরার রত্ন। আগর থেকে উৎপাদিত সুগন্ধী তেল হল তরল সোনা। একে বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক। আজ উত্তর ত্রিপুরার কদমতলায় আগরউড ক্লাস্টার প্রসেসিং সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে একথা বলেন কেন্দ্রীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন ও যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। নর্থ-ইস্টার্ন কাউন্সিল-এর অর্থানুকূল্যে কদমতলা ব্লকের বড়গোল গ্রাম পঞ্চায়েতে এই আগরউড প্রসেসিং সেন্টারটি গড়ে তোলা হবে। বড়গোল পঞ্চায়েত কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, আগে এই আগর সংক্রান্ত ব্যবসা অসংগঠিত ছিল। ফলে আগর চাষীরা দিশাহীন ছিলেন। আগর চাষীরা দিনরাত পরিশ্রম করতেন কিন্তু তার সঠিক মূল্য পেতেন না।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগরচাষীদের নতুনভাবে দিশা দেখিয়েছেন। আগরকে বিশ্ব বাজারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যার সম্মুখীন হতেন চাষীরা, তা সমাধান করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, আগরকে বিশ্ব বাজারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রপ্তানী সংক্রান্ত কোটা বাড়ানো হয়েছে। আগর চিপস যেখানে আগে বছরে ২৫ হাজার কেজি পর্যন্ত রপ্তানী করা যেত, বর্তমানে তা ৬ লক্ষ কেজি করা হয়েছে। আগর তেলের রপ্তানী কোটা ১,৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৭,৫০০ কেজি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, আগে আগর চাষীরা পরিশ্রম করেও তাদের উৎপাদনের ৫ শতাংশ লাভ পেতেন। বাকি ৯৫ শতাংশ ভেলু চেইনের মাধ্যমে অন্যরা সুবিধা নিতেন। কিন্তু বর্তমান সরকার চাষীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে, চাষীদের পরিশ্রমের ফলে উৎপাদিত আগর যাতে কম দামে বিক্রি করতে না হয় এই জন্য আগর ব্যবসাকে অনেক সরলীকরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উত্তর-পূর্বের আগর চাষীরা যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ করতে পারেন সেই উদ্যোগও আগামীদিনে নেওয়া হবে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিশিষ্ট আগর ক্রেতাদের ত্রিপুরায় নিয়ে আসা হবে, যাতে আগর চাষীরা ঘরে বসে তাদের উৎপাদনের সঠিক মূল্য পেতে পারেন। এই আগর প্রসেসিং ইউনিট গড়ে উঠার পর প্রতিটি আগর চাষীর জন্য সুবিধা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে ভাবনা লোকাল টু গ্লোবাল এবং ভোকাল ফর লোকাল তা ত্রিপুরার আগর শিল্পের মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটবে। আগামীদিনে আগরকে কেন্দ্র করে বার্ষিক টার্ণওভার ২,০০০ কোটি করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হবে। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা বলেন, আগর শিল্পের উন্নয়নের জন্য এই আগর প্রসেসিং ইউনিট আমাদের গর্বের। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জীবিকা ও অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। ত্রিপুরার শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিস্কু রায় বলেন, কদমতলা এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার আগর চাষী রয়েছেন। কিন্তু আগে তারা আগর ব্যবসা সরাসরি করতে পারতেন না। তাদের বাড়িতে লাগানো আগর গাছ তারা বিক্রি করতে পারতেননা। কিন্তু বর্তমান সরকার আগর চাষীচদের আগর ব্যবসাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। এই আগর প্রসেসিং ইউনিট আগর চাষীদের জীবনে পরিবর্তন আনবে। এর মাধ্যমে আগর চাষীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। তিনি বলেন, ত্রিপুরা হল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গ্রোথ ইঞ্জিন। এই আগর প্রসেসিং ইউনিট আগামীদিনে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করবে এবং ত্রিপুরার শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এই আগর প্রসেসিং ইউনিটে ডিস্টিলেশন ইউনিট, ড্রাইং চেম্বার, কোয়ালিটি টেস্টিং ইত্যাদি সবকিছুর ব্যবস্থা এখানেই করা হবে।
এই প্রসেসিং ইউনিটের জন্য ২৭ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। প্রায় ৭ হাজার আগর চাষীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এখানে করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক যাদবলাল দেবনাথ, উত্তর ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, বন দপ্তরের প্রধান সচিব রবীন্দ্র কুমার সামল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অংশুমান দে, উত্তর-পূর্বাঞ্চল কাউন্সিলের ডিরেক্টর প্রসাদ রাও, উত্তর জেলার জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রন প্রমুখ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এছাড়াও কদমতলা ব্লকের ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে আগর প্ল্যান্টেশন সাইট ও একটি আগর উড চিপস ও আগর অয়েল ইন্ডাস্ট্রি পরিদর্শন করেন এবং আগর চাষীদের সাথে মতবিনিময় করেন।
কদমতলা ব্লকের বড়গোলে আগর উড প্রসেসিং ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে সাংবাদিকদের সাথেও মতবিনিময় করেন। । উত্তর-ত্রিপুরা জেলা থেকে ফিরে যাওয়ার পথে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ঊনকোটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানও পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য যে, ত্রিপুরায় কদমতলার বড়গোলে এবং আসামের গোলাঘাটে যে আগর উড প্রসেসিং সেন্টার গড়ে উঠবে তারজন্য মোট ব্যয় হবে ৭৮ কোটি ৫ লক্ষ টাকা।









