বিদ্যুৎ এবং পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তরের পর্যালোচনা সভা, আগরতলা শহরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য জনগণকে আরও বেশি করে উৎসাহিত করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন, ১৯ মে, ২০২৬: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার সভাপতিত্বে আজ টি.আই.এফ.টি.-র কনফারেন্স হলে আগরতলা পুরনিগম সহ বিভিন্ন শহর এলাকার বিদ্যুৎ এবং পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তরের এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচিত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ গুণগতমান বজায় রেখে সঠিক সময়ের মধ্যে শেষ করতে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন। আগরতলা শহরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য জনগণকে আরও বেশি করে উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দেন। অসামাজিক কাজের চেষ্টা হয় শহরাঞ্চলে এই রকম স্থানগুলিকে চিহ্নিত করে সোলার হাই মাস্ট বসানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী সভায় পরামর্শ দেন।

আজকের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ, মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা, সচিব অভিষেক সিং সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকগণ। সভায় টি.এস.ই.সি.এল.-এর প্রতিনিধি জানান, ২০২৩ সাল থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে ২৭টি ৩৩ কেভি সাব-স্টেশন, ১১ কেভি রিং মেইন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া মাটির নীচে ১৫৬ কিলোমিটার বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন, ৫৪০ কিলোমিটার কভার্ড কনডাক্টার এবং ৩৪৭কিলোমিটার এল.টি. এ.বি. ক্যাবল প্রভৃতির কাজ প্রায় শেষের পথে।

এরজন্য মোট ব্যয় হবে ২৬৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। আগরতলা শহরের মাটির নীচে বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন পাতা এবং এরসঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্মার্ট গ্রিড কন্ট্রোল সেন্টার, সাব স্টেশন স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। এই খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া এ.ডি.বি.র বরাদ্দকৃত অর্থে আগরতলা পুরনিগম এলাকায় ১ লক্ষ ২০ হাজার এবং মোহনপুর পুরপরিষদ এলাকায় ৩০ হাজার স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ চলছে। ইতিমধ্যে এই কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়াও আর.ডি.এস.এস. স্কিমেও বিভিন্ন শহর এলাকাগুলিতে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজারের উপর স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ চলছে। টি.এস.ই.সি.এল.-এর প্রতিনিধি আরও জানান, পি.এম. সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনায় রাজ্যে ৮টি জেলার জেলাশাসকের কার্যালয়ে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। পি.এম. সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ জানান, এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত শহর এলাকাগুলিতে ২ হাজার ৮৪৫টি সোলার ইউনিট বসানো হয়েছে। ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৫৩.৬১ কোটি টাকা। রাজ্যের বিভিন্ন শহর এলাকায় প্রায় ১.৫ লক্ষ বাড়িতে এই প্রকল্পে সোলার প্যানেল লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান।

ত্রিপুরা পাওয়ার ট্রান্সমিশন লিমিটেডের (টি.পি.টি.এল.) প্রতিনিধি সভায় জানান, স্পেশাল অ্যাসিস্টেন্স টু স্টেট ফর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট (এসএএস.সি.আই) স্কিমে লাইভ লাইন টেকনিক ও ড্রোন মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করতে, বজ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন এবং ট্রান্সফরমারগুলিকে রক্ষা করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৭৯ টিলাস্থিত ডিভিশন কার্যালয়ের অধীনস্থ সকল পুরানো ট্রান্সফরমারগুলিকে পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সভায় ট্রেডার প্রতিনিধি জানান, পি.এম. কুসুম প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ২৭৫টি দুর্গম অঞ্চলে সোলার মাইক্রো গ্রিড স্থাপন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে ৬৩টি সোলার হাই মাস্ট বসানো হয়েছে।

আগামীদিনে আরও ১৫০টি এই ধরনের হাই মাস্ট স্থাপন করা হবে। জলসেচের সুবিধার জন্য রাজ্যের প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি সোলার পাম্প বসানো হয়েছে। এছাড়াও ১৩০টি ডি.ডব্লিউ.এস. প্রকল্পকে সোলার প্যানেল সমন্বিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এক্ষেত্রে মাতাবাড়িতে সোলার প্যানেল বসানোর মাধ্যমে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেদিকে নজর দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন। সভায় পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, অমরুত ২.০ স্কিমে পানিসাগর, কমলপুর, বিশালগড়, সোনামুড়া, জিরানীয়া, তেলিয়ামুড়া, শান্তিরবাজার এবং সাব্রুমে বিভিন্ন পানীয়জলের উৎস স্থাপন করা হয়েছে। সভায় ত্রিপুরা পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের প্রতিনিধিও আলোচনা করেন।